Showing posts with label জীবনমুখি শিক্ষা. Show all posts
Showing posts with label জীবনমুখি শিক্ষা. Show all posts

Thursday, 6 November 2025

মদ নিজে পাপ নয়; পাপ হলো মদের অপব্যবহার.......

বাঙালি ওয়াইন খেয়ে নেশা খোঁজে। অথচ ওয়াইন তৈরি হয়েছিল খাবারের অংশ হিসেবে—একটি সঙ্গীতের মতো, যা রসনাকে জাগিয়ে তোলে। ফরাসিরা প্রতিদিন দু’বেলা খাবারের সঙ্গে ওয়াইন পান করে, ঠিক যেমন আমরা একবেলা দই খাই।


ওয়াইন শুরু করতে হয় খাবারের আগে—এক ঢোঁক দিয়ে রুচি জাগাতে।

রেড ওয়াইন মানে মাংসের সঙ্গী;

হোয়াইট ওয়াইন মানে মাছের সাথি।


আর শ্যাম্পেন? সেটি আসলে এক প্রজাতির হোয়াইট ওয়াইন—যা ফেনিল, উৎসবমুখর, আর জন্ম থেকেই বিলাসিতার প্রতীক। শ্যাম্পেনের প্রতিটি বুদ্বুদ যেন আকাশের একেকটি তারাকে গ্লাসে বন্দি করে।


🔖ভদকা : বরফের দেশে জন্ম, গরমে মৃত্যুবরণ


বাঙালি ভদকা খায় গরমে! অথচ এটি রাশিয়ার শীতের সন্তান—একটি পানীয়, যা বরফে জমে যাওয়া শরীরে আগুন জ্বালাতে উদ্ভাবিত। রাশিয়ান শ্রমিকেরা একসময় সকালবেলায় এক ঢোঁক ভদকা খেয়ে বের হতেন কাজে, যেন হিমে জমে না যান।


এই পানীয় গরমে খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়—অর্থাৎ এটি একপ্রকার নরকীয় পানীয় হয়ে ওঠে। তাই গরমে ভদকা মানেই শরীরকে ধোঁয়ায় পরিণত করা!

আর শ্রেষ্ঠ ভদকার নাম জানতে চাইলে মনে রাখুন—Stolichnaya—রাশিয়ার গর্ব, শীতের মুকুট।


🔖জিন : গরমের সান্ত্বনা, শীতের বিপদ


বাঙালি জিন খায় শীতে। অথচ এই পানীয়ের জন্মই হয়েছে গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য। মূল উপাদান জুনিপার বেরি শরীরে শীতলতা আনে, এবং গরমের দিনে এটি একপ্রকার প্রাকৃতিক এয়ার কন্ডিশনারের কাজ করে।


এক চামচ জিন এক গ্লাস ঠান্ডা জলে মিশিয়ে পান করলে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। এজন্যই গলফ খেলার সময় পশ্চিমের খেলোয়াড়রা এটি ‘রিফ্রেশার ড্রিংক’ হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু শীতে? শীতে জিন মানে আত্মহত্যার উপায় একটু রুচিসম্পন্নভাবে!


🔖 ব্লাডি মেরি : ককটেল নয়, ককটেলের বিরামচিহ্ন


বাঙালি ‘ব্লাডি মেরি’ খায় মূল পানীয় হিসেবে। অথচ এটি অন্তর্বর্তী পানীয়—দুটি মদের মাঝে একপ্রকার সেতুবন্ধন। টমেটো জুসের কারণে এটি পূর্ববর্তী পানীয়ের প্রভাবকে নিরপেক্ষ করে, নতুন পানীয়ের জন্য রসনাকে প্রস্তুত করে।


এক কথায়, ব্লাডি মেরি হলো ‘এন্টি-ড্রিংক’।

যেমন কথার মাঝে বিরতি দরকার, তেমনি পানীয়ের মাঝেও দরকার একটু বিরতি—ব্লাডি মেরি সেই বিরতির রূপ।


🔖হুইস্কি : বরফের কবিতা


বাঙালি হুইস্কি খায় “র” বা জলে মিশিয়ে। অথচ হুইস্কি মানে হল জল ও আগুনের নিখুঁত সমন্বয়—যেখানে বরফই আসল মধ্যস্থ।

মূলনীতি হলো—প্রথমে গ্লাসে বরফ দিন, তারপর তার উপর দিয়ে স্কচ ঢালুন।


তাহলেই স্কচ বরফ বেয়ে নেমে আসবে এক স্বর্গীয় ধারা হয়ে, ঠিক যেমন পাহাড়ি ঝর্ণা নেমে আসে স্কটল্যান্ডের উপত্যকায়। স্কচকে কখনও জলে নিমজ্জিত করবেন না, কারণ এটি নিজেই স্কটিশ ঝর্ণার সন্তান!


মদ মাতালের জন্য নয়। মদ হলো যিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানেন, তাঁর জন্য এক পরিমিত সৌন্দর্য। যিনি মদ পান করেন না, কারণ তিনি খেয়ে ফেলেন, তাঁর কাছে মদ হারাম।

কিন্তু যিনি মদ পান করতে পারেন—অর্থাৎ আস্বাদন, নিয়ন্ত্রণ ও সম্মান করতে জানেন—তাঁর কাছে মদ একপ্রকার সঙ্গীত, একপ্রকার ধ্যান।

Saturday, 20 August 2022

বাস্তবিকতা

এক পর্যটক একদিন এমন একটি শহরে বেড়াতে এলেন, যেখানে পুরো শহরটি ধার-দেনায় ডুবে ছিল। তো পর্যটক ভদ্রলোক ৫০০ টাকার একটি নোট হোটেলের কাউন্টারে দিয়ে বললেনঃ আমি আপনার হোটেলের ভেতরে যাচ্ছি। দেখি কামরা পছন্দ হয় কি না। 

হোটেল মালিক সঙ্গে সঙ্গে ঘিওয়ালার নিকট দৌড়োলেন। তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে পুরোনো হিসাব মিটিয়ে দিলেন। 

ঘিওয়ালা টাকা হাতে পেয়ে দৌড়ালেন দুধওয়ালার কাছে। আর পৌঁছে ৫০০ টাকা দিয়ে তার হিসাব চুকিয়ে দিলেন।

দুধওয়ালা গেলেন গাইওয়ালার নিকট। তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে তার ধার শোধ করে দিলেন।

গাইওয়ালা দৌড়ে গেলেন ঘাসওয়ালার কাছে। ৫০০ টাকা দিয়ে তার হিসাব মিটিয়ে দিলেন। 

ঘাসওয়ালা টাকা হাতে আসতেই ওই হোটেলে দৌড়ে এলেন। ওখানে তিনি মাঝে মাঝে ধারে খাবার খেতেন। হোটেলের মালিককে সেই ৫০০ টাকা দিয়ে তিনি হাঁফ ছাড়লেন। 

কিছুক্ষণ পরে পর্যটক ভদ্রলোক ফেরত এলেন। তিনি ৫০০ টাকার নোটটি ফিরিয়ে নিয়ে বললেনঃ সরি, কোনো রুম পছন্দ হল না !

না কেউ কিছু নিল, না কেউ কিছু দিল। অথচ সবারই হিসাব চুকে গেল! 

গোলমালটা কোথায় ?

আসলে কোথাও কোনো গোলমাল নেই। 
সবারই ভুল ধারণা হল “টাকা আমার”। 
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পৃথিবীতে খালি হাতে এসেছেন; খালি হাতেই ফিরে যেতে হবে।।

Wednesday, 17 August 2022

স্বাধীনতা দিবসের কিছু অভিজ্ঞতা





পনেরই আগস্ট সকাল সকাল ফোনটা পেলাম ।
এক বন্ধু ফোন করেছে ।
ফোন তুলতেই বললো , "Happy Independence Day"
আমি বললাম, "আজ তো ছুটি। দশটার সময় পাড়ার চায়ের দোকানে আয়, গল্প করা যাবে ।
বন্ধু বললো , "আজ ছেড়ে দে। আজ বউয়ের ছুটি। সকালে আড্ডা দিতে গেলে ঘোর অশান্তি লাগবে !"
আমি আর পরাধীন বন্ধুকে স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানালাম না ।

রাস্তায় দেখা হলো শিবেন্দুর সাথে। সে বললো ,
"Happy Independence Day" 
আমি জিগেস করলাম , " কোথায় চললি?"
মুচকি হেসে বললো , " বসের বাড়ি "
আমি অবাক হয়ে বললাম ," আজ তো ছুটি'"
শিবন্দু বললো , "এই document ক্লায়েন্ট কে মেল করতে হবে । একবার দেখিয়ে সামনাসামনি এপ্রুভাল নিয়েনি। তাহলে আর ভুল হলে আমায় কিছু বলতে পারবেনা"
শিবেন্দুর মুখে চতুর হাসি !
নাঃ। পরাধীন শিবেন্দুকেও স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানো গেলোনা ।

৩ 
আমার দূরসম্পর্কের ভাই স্বাস্থ্য সচেতন নীলু এসেছে বাড়িতে। মিষ্টি দেখে হাই হাই করে উঠলো। যেন বিষ দেয়া হয়েছে। আমি বললাম কি হলো ? 
নীলু বললো ,"মিষ্টিতে কত ক্যালোরি জানো? ওসব বর্জন করেছি। এখন স্রেফ boiled ফুড !"
যাবার আগে সেও বললো , "Happy Independence Day" আমি ওর ব্যাপারেও মৌনতা অবলম্বন করলাম ।

তখন বিকেল। পাশের বাড়ির মুন্নি দুলে দুলে ক্লাসের পড়া করছে । 
ওকে বললাম , " কিরে মুন্নি বিকেলে খেলতে যাবি না।?"
মুন্নি বললো ," কাল ক্লাস টেস্ট। নাম্বার কম হলে এবার আর ফার্স্ট হতে পারবোনা "
ওকে আর "Happy Independence Day" শেখালাম না।

রাতে বাড়ি ফিরছি । রাস্তার ধারে দেখলাম পাড়ার কালু জমাদারের বাচ্চা ছেলে মুড়ি খাচ্ছে । পাশে তার বোন। দুটোকে প্রায়ই দেখি। ভাই তার বোনকে মুড়িটা নিয়ে বলছে ," এই নে বিরিয়ানি। " অমনি মেয়েটা খপ করে মুড়ি তুলে খাচ্ছে আর দুজনে হেসে গড়িয়ে পড়ছে। আবার মুড়ির বাটি এগিয়ে বলছে , "এই নে চাউমিন " 
মেয়েটা আবার খানিকটা মুড়ি খাচ্ছে আর আবার হেসে গড়িয়ে পড়ছে । দেখে খুব মায়া হলো। এগিয়ে গিয়ে বললাম "চাউমিন খাবি ?"
মেয়েটা জ্বলজ্বল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো।
ভাইটা আমায় মুড়ির বাটি দেখিয়ে বললো , "এই তো খাচ্ছি ! "
আমি হেসে বললাম , " আরে সত্যিকারের চাউমিন; শিবুর দোকান খোলা আছে ।"

সেই দশ বছরের ছেলে আমার চোখে চোখ রেখে বললো , " বাবা বলে অন্যের ওপর নির্ভর না করতে। তাহলে নিজের স্বাধীনতা চলে যায় ! এই মুড়িটাই আমার চাউমিন । আমার বিরিয়ানি ! কারণ এটা আমার নিজের ।"
আমি একটু চুপ করে থাকলাম। তারপর ওর মাথায় হাত বুলিয়ে সারাদিনের জমানো শুভেচ্ছা একসাথে ওর কাছে উগরে দিয়ে বললাম , "Happy Independence Day, তোর মত এমন সুখে সুখী খুব কম আছে রে ।"

🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

স্বর্গ ও নরক




এক বড় মাপের নেতার মৃত্যু হলে যমদূত তাকে 
নিয়ে যমরাজের কাছে হাজির হল।

তার সারা জীবনের ক্রিয়াকলাপ দেখে যমরাজ বলল, 
“তুমি মানব জীবনে কিছু পূন্যের কাজও করেছ। 
তাই তোমাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তুমি নিজেই ঠিক করে নাও স্বর্গে থাকবে না নরকে। 
আর এই জন্য আমার দূত তোমাকে একদিনের জন্য 
নরক এবং একদিনের জন্য স্বর্গে থাকার ব্যবস্থা করবে।

তারপর তুমি যেখানে থাকতে চাইবে সেখানেই তোমার 
ব্যবস্থা হবে”।

প্রথম দিন দূত তাকে নরকে রেখে এল। নেতা সেখানে 
দেখল সবুজ মাঠ, সুন্দর নদী, প্রচুর ফলের গাছ। 
তারপর দেখল এক মাঠে অনেক লোক।

কিছু ফুটবল খেলছে, কিছু ক্রিকেট খেলছে, 
কিছু মাঠে বসে গল্প করছে। সে এগিয়ে যেতেই 
দেখতে পেল তাদের অনেকই তার বিশেষ পরিচিত।

তারা সবাই এক এক করে এগিয়ে এসে আলিঙ্গন করল। 
তারপর সন্ধ্যা হতেই চিকেন, মটন আর তরল পদার্থ 
খেয়ে ঘুমিয়ে পরল।

পরদিন যমদূত তাকে স্বর্গে রেখে এল। 
সেখানে গিয়ে সে দেখল সুন্দর আকাশ, নদী, 
প্রচুর ফলের গাছ। চারিদিকে শুধুই শান্তি 
কোনও কোলাহল নেই।

আর এক মধুর সঙ্গীত সবসময় বাজছে। 
তারপর দেখতে পেল প্রচুর মানুষ চোখ বন্ধ 
করে ধ্যান করছে।

কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছে না। সারাদিন 
নেতা চুপচাপ থেকে বিরক্ত হয়ে গেল।

পরদিন দূত তাকে আবার যমরাজের কাছে 
নিয়ে গেল।

যমরাজ, “তুমি দুই লোকই ঘুরে দেখেছ। 
এখন তুমি নিজেই বল কোথায় থাকবে?”

নেতা, “নরকে প্রচুর বন্ধু বান্ধব রয়েছে। 
তাদের সঙ্গেই থাকতে চাই”।

এবার দূত নেতাকে নিয়ে নরকে গেল। 
আগের দিনের দেখা কোনও কিছুই নেই। 
শুধু মরুভূমী, ধূ ধূ প্রান্তর।

তাই নেতা দূতকে বলল, “সেদিনের দেখা জায়গা 
থেকে তো এটা একদমই বিপরীত!”

দূত, “প্রথম দুই দিন ছিল নির্বাচনের প্রচার। 
আর আজ তুমি ভোট দিয়েছ !!”………কেমন?.....

ফিউজ বাল্ব




*একজন খুব বড় অফিসার সবে সবে রিটায়ার করে দামি হাউসিং সোসাইটি তে থাকতে এসেছেন*,,,,,,,

অফিসার ভীষন ভাবে নিজের দাম্ভিকতা নিয়ে ব‍্যাস্ত ছিলেন, ফলে কারোর সাথে সেভাবে কথা বলতেন না,,,,,,,

একদিন তিনি আর একজন বয়স্ক লোকের পাশে গল্প করার জন্য বসলেন,,,,,,, তারপর থেকে ওনার পাশেই রোজ বসতে থাকেন,,,,,,,

যথারীতি ঐ অফিসারের কথাবার্তা সব সময় একই,,,,, *অর্থাৎ তিনি কত বড় অফিসার ছিলেন যে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না,,,,, এখানে একরকম বাধ্য হয়েই এসেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি,,,,,*

শুনতে শুনতে ওই বয়স্ক মানুষ টি একদিন আর থাকতে না পেরে বললেন,,,,,' *রিটায়ারমেন্টের পরে আমরা সবাই একটি ফিউজ বাল্বের মতন, কে কত ওয়াটের তার কোন মুল‍্য নেই,,,,,, আমি এই সোসাইটিতে আছি গত পাঁচ বছর ধরে,,,,,, কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকে আমি বলিনি যে আমি দুবার 'মেম্বার অফ পার্লামেন্ট' ছিলাম,,,,,,, ঐ যে উনি ভার্মাজি রেলের জেনারেল ম্যানেজার,,,,,,ঐ যে সিং সাহেব আর্মির ব্রিগেডিয়ার,,,,,,, এই যে মেহেরা জি ISRO র চিফ এরা আমাকে কেউ বলেনি,,,,,, কিন্তু আমি জানি,,,,,,, সমস্ত ফিউজ বাল্বই সমান,,,,,, সেটা 0 ওয়াট হোক বা 100 ওয়াটের,,,,, এমনকি হ‍্যালোজেন বা ফ্লাড লাইট যাই হোক না কেন? যত তাড়াতাড়ি এটা বুঝতে পারবেন তত তাড়াতাড়ি আপনি সবার সাথে মিলে মিশে থাকতে পারবেন,,,,,,,,

Thursday, 2 June 2022

জীবযাপন




লাইফস্টাইল একটু সহজ সরল রাখুন। নিজেদের আশপাশ অতিরিক্ত আড়ম্বরে মুড়ে ফেলবেন না। হাতে টাকা এলেই লোক দেখিয়ে খরচা করে নিজেকে কেউকেটা দেখাতে যাবেন না।

চতুর্দিকে আমাদের বয়সী ছেলে মেয়েগুলো নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে। কী কী কারণ আছে জানিনা; তবে জীবনযাত্রার মান ভীষণ ভাবে উপরে উঠিয়ে দেওয়ার পর যখন আর্থিক সংকটে তাকে মেনটেইন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন সর্বনাশা ডিপ্রেসন চেপে ধরতে বাধ্য। যার পরিণাম শেষ কয়েক সপ্তাহের সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম!

লোক দেখানো বৈভব দিয়ে কি হবে? হয়ত যাকে বা যাদেরকে দেখাচ্ছেন, ভিতরে ভিতরে তারাও ভীষণ ফাঁপা হয়ে আছেন। কী লাভ তাহলে? কৃত্রিম সুখের প্যালেস সাজাতে গিয়ে জীবন থেকে রামধনু হারিয়ে যাচ্ছে না তো? শিশির ভেজা ধানের শীষ হারিয়ে যাচ্ছে না তো?

টাকা আজ আছে, কাল নেই! গদিতে ঘুমানো একবার অভ্যেস করে ফেললে কাঠের চৌকিতে পিঠে ছোঁয়াতে পারবেন না আর কখনো তাই একটু সংহত হন। পাঞ্জাবি ফেটে গেলে সেলাই করে পড়তে শিখুন.. মোবাইল ভেঙে গেলে সারাই করে ব্যবহার করুন.. যতদিন করা যায়!

মায়েরা খাওয়ার শুরুতে সবসময় তেতো খাওয়া শিখিয়েছেন। যেন পরের পদগুলোর স্বাদ বেড়ে যায়। কিংবা আগে সুস্বাদু খাওয়ারে জিভকে অভ্যস্ত করিয়ে পরবর্তীতে তেতো খাওয়ার কষ্ট যেন সহ্য করতে না হয়। মায়েদের ওই খেতে শেখানোটা কিন্তু আদপে বাঁচতে শেখানো..

এই প্রজন্মের সকলকে মিলে একটা আদর্শ জীবন যাত্রার সর্বাত্মক আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। ছেলে মেয়েদের বাইরে খেলতে পাঠান। মারামারি করুক, চুলোচুলি করুক, আবার একে অন্যেকে পেয়ারা পেড়ে খাওয়াক। একটু কাদা মাটি মাখুক.. ছোট থেকে শিশুদের মিশতে দিন সবার সাথে। বীজ যেমন মাটি পাবে, গাছ হয়ে তার বাহার কিন্তু তেমনই হবে! চারা গাছ রোদ, বৃষ্টি না পেলে কিন্তু মরে যায়। এসি রুমে, ফাইবারের প্লেটে গাছ বাঁচে না।

ঐশ্বর্যে মোড়া চার দেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে, আসুন একটু মন খুলে বাঁচি.. একটু ঘামের গন্ধে, একটু সাধারণ ছন্দে.. চার চাকা ছেড়ে একটু রিক্সায় উঠুন.. হাওয়া পাবেন। দেখবেন, রিক্সার টানের চোটে "দড়ি"টা আর আপনাকে টানবে না..

ফরাসি প্রেম




মধ্যযুগে ফরাসি শহরে মহিলারা সকালে স্বামীর নাস্তায় হালকা বি**ষ মাখিয়ে দিতো, আবার রাতে বাড়ি ফিরলে ঔষুধ দেওয়া হতো৷ তাই এই বি**ষে মানুষের কোন ক্ষতি হতো না। কিন্তু কোনো পুরুষেরা অন্য কোথাও থাকার কারণে বাড়িতে আসতে যদি দেরি হতো তখন ঔষুধ দিতে লেট হলেই পুরুষদের মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, বিষণ্ণতা শুরু হতো।

যে মানুষটি বাড়ি থেকে যত দূরে ছিল, সে তত অসুস্থ হতো। সে সময় মহিলারা সন্দেহ করতো তাদের স্বামী বোধহয় প****কী**য়া করে৷

তারপর যখন তারা বাড়ি ফিরত, নিজের অজান্তেই তাদের স্ত্রী তাদের প্রতিষেধক দিয়ে দিত এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা সুস্থ হয়ে যেত। বাট পুরুষরা এটা টের পেত না।

এই ভয়ানক কৌশলে পুরুষ প্রতারিত হয়েছিল, কারণ তারা কল্পনা করেছিল বাড়ি থেকে দূরে থাকলে তাদের কষ্ট ও বিষণ্নতার কারণ হবে, তাই তারা তাদের বাড়ি ও বউদের ছাড়া বেশি দূর কোথাও যেত না।

Thursday, 24 March 2022

গল্পে গল্পে Parts of speech




Noun আর তার ভাইয়েরা মোট ৮ জন। তাদের বাড়ির নাম হল Sentence ভিলা সমাজের মানুষ তাদের Parts of speech বলে ডাকে। এক বাড়িতেই (Sentence) তারা ৮ ভাই থাকে। তবে তাদের কাজকর্ম এক না। 

১ম ভাইয়ের নাম হল Noun । তার কাজ হল সব কিছুর নাম বলা। বাড়িতে যা যা দরকার শাকসবজি, গোশত, মাছ সবকিছুর নাম বলা ।

২য় ভাইয়ের নাম হল Pronoun Noun বাড়িতে না থাকলে সে noun এর কাজ করে দেয়। Noun এর অনুপস্থিতিতে Noun এর সব কাজ Pronoun ই করে।

৩য় ভাইয়ের নাম হল Adjective Noun ও Pronoun এর পিছনে গোয়েন্দাগিরি করা। তাদের দোষ-গুণ লিখে রাখাই হল Adjective এর কাজ।

৪র্থ ভাইয়ের নাম হল Verb। তার কাজ হল সবার কাজ বলে দেওয়া । খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, গোসল সব কাজ বলে দেওয়া।

৫ম ভাইয়ের নাম হলো Adverb। তার কাজ হল ৩য় ও ৪র্থ ভাই (Verb, Adjective) এর নজরদারি করা। তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা মাঝেমধ্যে সে নিজের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করে।

৬ষ্ঠ ভাইয়ের নাম হল Preposition । ভাইদের মাঝে সম্পর্কের বন্ধন তৈরি করাই তার কাজ। (Noun + Verb + Pronoun, Noun + Noun)

৭ম ভাইয়ের নাম হল Conjunction তার কাজ Preposition এর কাজের চেয়ে বড়। সে এক বাড়ির সাথে অন্য বাড়ির আত্মীয়তার সম্পর্ক সৃষ্টি করে এবং তারা সবাই মিলে সেই বাড়িতে দাওয়াত খায় । (Sentence + Sentence)

৮ম ভাইয়ের কাজটা খুবই দারুণ! তার নাম Interjection। সে আনন্দে-দুঃখে সব সময় সবার পাশে থাকে। সবার আবেগ প্রকাশ করাই তার একমাত্র কাজ।

Wednesday, 23 March 2022

সুন্দর ছবি




এক রাজার একটি চোখ ও একটি পা অকেজো ছিল... 

তিনি একদিন সব অঙ্কনশিল্পীদের ডেকে বললেন তার একটা সুন্দর "পোরট্রেইট" আঁকতে... 

কেউ রাজি হল না...কারণ সবাই ভাবছিল কানা আর ল্যাংড়া রাজাকে ছবিতে সুন্দর কিভাবে দেখানো সম্ভব! 

একজন রাজি হল...
তার আঁকা শেষ হওয়ার পর তা দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল...
তাঁর ছবিতে রাজা একটা হরিন শিকার করছিল...এক চোখ বন্ধ করে লক্ষ্য স্থির করছিল আর এক পা মুড়ে শরীরের ব্যালেন্স রাখছিল...
সেই আঁকিয়ে নিশ্চই অনেক ভালো পুরস্কার পেয়েছিল, কিন্তু শুধু তাঁর ছবির জন্যে নয়, বরং সেই অমোঘ বার্তাটার জন্যে যেটা সে তাঁর ছবির মাধ্যমে সবাইকে দিয়েছিল..সেটা হল,
" সবারই কিছু না কিছু দুর্বল জায়গা আছে...সেই জায়গাটুকু বাদ দিলে সবাই সুন্দর...কিন্তু কিভাবে সেটা বাদ দিয়ে কাউকে দেখবে তা নির্ভর করছে তোমার উপর..."

লিপিড প্রোফাইল




একটি সুন্দর গল্প(লিপিড প্রোফাইল কে সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে)
****************

আমাদের শরীর যদি একটা ছোট্ট শহর হয় তবে এই শহরের প্রধান সমাজবিরোধী হচ্ছে *কোলেষ্টেরল।* এর সাথে কিছু সাঙ্গ পাঙ্গ আছে। তবে একেবারে ডানহাত *ট্রাইগ্লিসারাইড।* এদের কাজ হচ্ছে রাস্তায় রাস্তায় মাস্তানি করে রাস্তা block করা , শহরকে ব্যতিব্যস্ত রাখা। *হৃৎপিন্ড* হলো এই শহরের প্রাণকেন্দ্র। শহরের সব রাস্তাগুলো এসে মিশেছে প্রাণকেন্দ্রে। সমাজবিরোধীর সংখ্যা বেশী হলে কি হয় আপনারা সবাই জানেন। এরা নিত্য নতুন হাঙ্গামা বাধিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রকে অচল করে দিতে চায়। 
.
আমাদের শরীর নামক শহরে কি পুলিশ নেই ? যারা মাস্তানদের ক্রসফায়ার করবে, তাদের ছত্রভঙ্গ করে জেলে‌ ভরবে ?
হ্যাঁ, আছে। তার নাম *H D L* এই ব্যক্তি পাড়ায় পাড়ায় মাস্তানী করা এসব মাস্তানদের রাস্তা থেকে তুলে এনে জেলে ভরে রাখে। জেল মানে *লিভার* । *লিভার* এইগুলোকে বাইল সল্ট বানিয়ে শহরের পয়নিষ্কাশন লাইনের মাধ্যমে (পায়খানার সাথে) শহর থেকে বের করে দেয়। কি অদ্ভুত শাস্তি মাস্তানদের!
আর একজন আছে *L D L*.
তিনি‌ আবার ক্ষমতালোভী। তিনি ক্ষমতার জোরে তাদের জেলখানা থেকে তুলে আবার রাস্তায় বসিয়ে দেন।মাস্তানদের মাতলামো তে পুরো শহরে জ্যাম লেগে যায়। 
*H D L* হায় হায় করে দৌড়ে আসে। কিন্তু সে *L D L* আর মাস্তানদের যৌথ শক্তির সাথে পেরে ওঠেনা। পুলিশের *(H D L*) সংখ্যা যত কমে মাস্তানরা ততই উল্লসিত হয়।

 শহরের পরিবেশ হয়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর।

এমন শহর কার ভালো লাগে বলুন?

আপনি মাস্তানদের কমিয়ে পুলিশ বাড়াতে চান?

*তবে হাঁটুন।*
আপনার প্রতি কদমে পুলিশ পোস্টিং *(H D L)* বাড়বে,
যত পুলিশ বাড়বে , ততই *Cholesterol* (মাস্তান) *Triglyceride* (মাস্তানের চামচে) , *L D L* কমবে।

 আপনার শহর *(শরীর)* প্রানচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।
আপনার শহরের প্রানকেন্দ্র *(হার্ট)* মাস্তানদের অবরোধ *(হার্ট ব্লক )* থেকে বাঁচবে। 
আর শহরের প্রানকেন্দ্র *(হার্ট)* সুস্থভাবে বাঁচা মানে আপনিও সুস্থভাবে বাঁচবেন।

তাই সময় বা সুযোগ পেলেই শুরু করুন 🚶🏾‍♂🚶🏻‍♀🚶🏾‍♂🚶🏻‍♀

কল্যাণ vs উন্নয়নের / Welfare vs Development




কুয়োর মধ্যে পড়ে যাওয়া মানুষকে,, আপনি দুই রকম ভাবে সাহায্য করতে পারেন।।

প্রথমতঃ--কুয়োর মধ্যে পর্যাপ্ত খাদ্য- পানীয় পৌঁছে দিতে হবে।। যাতে মানুষটি ওখানেই বেঁচে থাকতে পারে।।

দ্বিতীয়তঃ-- একটা শক্তপোক্ত দড়ি ঝুলিয়ে দিয়ে,, মানুষটিকে কুয়োর বাইরে বের করে আনতে হবে।। যাতে সে নিজের বাঁচার রসদ নিজেই তৈরী করে নিতে পারে।। 

প্রথম পথটির নাম হলো - Welfare অথবা কল্যাণ,, দ্বিতীয় পথটির নাম হলো,, Development বা উন্নয়ন।। 

আমরা কল্যাণ এবং উন্নয়নের মধ্যে তফাৎ-টুকু যথাযথভাবে বুঝে উঠতে পারি না।। মোদ্দা কথা হলে,, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা আমাদের বুঝতে দেন না।।

যে কোনো শাসকের উচিত Development করা,, অথচ,, আমাদের শাসক আমাদের জন্য Welfare করে থাকে।।

Welfare প্রয়োজন হয়,, প্রতিবন্ধী মানুষের,, আমরা সুস্থ-সামর্থ্য,, আমাদের প্রয়োজন Development... 

আমরা welfare কে Development ভেবে নিজেরাই নিজেদের প্রতিবন্ধী করে তুলেছি।। 

আমরা দুই টাকা চাল, মাথা হেঁট করে খেয়ে গুণগান করতে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি...
**কিন্তু আমাদের উচিত ছিলো যথাযথ ইনকাম করে ৬৫ টাকা কেজি চাল কিনে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা।। 

এটা আমরা বুঝতেই পারছি না‌।।
আমাদের বুঝতে দেওয়া হচ্ছে না।।

পুরুষের সৌন্দর্য

শুধু নারী নয় সৌন্দর্য পুরুষেরও আছে। যে লিখেছেন জাস্ট ওয়াও 👌

ভীড়ের মধ্যে যে পুরুষ তোমায় আগলে রাখে সে পুরুষের সৌন্দর্য কী জানো? তোমার মর্যাদা। 

ফুটপাতে চলার পথে যে পুরুষ নিজে ডানদিকে থেকে তোমাকে বামদিকে রাখে সৌন্দর্য সে পুরুষেরও আছে। তোমার নিরাপত্তা তার নাম। 

যে পুরুষ তোমায় সবসময় জানালার পাশে বসতে দেয় সে পুরুষের সৌন্দর্য কি? তোমার ভালোলাগা তার ভালোলাগা। 

যে পুরুষ কষ্টার্জিত আয় তোমার হাতে তুলে দিয়ে বলে, সংসারটাকে একটু সামলে রেখো সে পুরুষের সৌন্দর্যকে কি নামে ডাকো?
আস্থা। 

যে পুরুষ তোমাকে একপলক দেখার জন্য ছটফট করে, সামান্য অপ্রাপ্তিতে পাগলামো করে সে পুরুষের সৌন্দর্যের নাম ভালোবাসা। 

যখন নারী তুমি অগ্নিরূপ ধারণ করো তখন যে পুরুষ নিশ্চুপ থাকে আর শেষে বলে, ভালোবাসি। 
সে পুরুষের সৌন্দর্য তোমার নজরে পড়েছে কখনো? কি নাম দিবে তার? গুরুত্ব! 

যে পুরুষ নারীকে মর্যাদা দেয় না সে পুরুষের পৌরুষত্ব নেই।
আর যার পৌরষত্ব নেই সে আবার পুরুষ নাকি?

পুরুষ গলির মোড়ের ফার্মেসি থেকে শুধু কনডমই নিয়ে আসে এমন নয়। ঘরের নারীর জন্য প্যাডও নিয়ে আসে।
বুকপকেটে করে ছোট্ট একটা উপহারও নিয়ে আসে।  

গভীর রাতে স্ত্রীর কাছে পুরুষ কেবলই সুখ চায় এমন নয় । 
পুরুষ স্ত্রীকে বুকে টেনে নিয়ে কপালে চুমু খেয়ে জিজ্ঞেস করে, ব্যথাটা কমেছে তোমার?

পুরুষ মানুষ কেবলই নিজেরটা বুঝে এমন নয়, পুরুষ মানুষ তোমাকে এগিয়ে যেতে সাহসও জোগায়।

তবুও যদি বলো, সব পুরুষই খারাপ, পুরুষ মানুষ মানেই ভোগবাদী, পুরুষ মানুষ কেবলই স্বার্থপর, আমাকে দুঃখ নিয়ে বলতে হয়, তুমি পুরুষত্বটাই দেখেছো, পৌরুষত্ব তোমার নজরে আসেনি। 
শোন নারী, সৌন্দর্য পুরুষেরও আছে তুমি খুঁজে নিতে পারোনি।

টুকরো কথার গল্প

১-মুখোশ

টাকা কি গাছে ফলে নাকি রে, যে বছর বছর তোর বেতন বাড়াতে হবে। ওই টাকায় কাজ করলে কর ,নয়তো অন্য রাস্তা দেখ। রাগতো স্বরে বাড়ির কাজের মেয়েটিকে কথা গুলি বললেন শ্রমিক আন্দোলনের নেতা অমল বাবু।

২- নেশা

নেশা মুক্তি সমিতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে যুব সমাজের উপর নেশা যে কী প্রবল ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে সেই নিয়ে প্রায় ঘন্টা খানিক ভাষন দিলেন বিজয় বাবু। প্রবল করতালিতে ফেটে পড়লো চারিদিক। হাসি হাসি মুখে মঞ্চ থেকে নেমে একটা সিগারেট ধরালেন তিনি।

৩- ভাবনা

রিক্সায় বসে ভাবতে থাকে অজয় মা কে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে ফালতু ফালতু বেশ কিছু টাকা খরচ হয়ে গেল। বিরক্তির রেখা ফুটে ওঠে তার মুখে। রিক্সাচালক পল্টু ভাবতে থাকে আরো ঘন্টা খানিক রিক্সা টানতে হবে, আজ মায়ের ওষুধটা কিনতেই হবে।তার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।

৪- গন্ধ 

 প্রায় তিন মাস ধরে লাগাতার বায়না করে অবশেষে চটকল শ্রমিক বাবার থেকে স্মার্ট ফোন কেনার জন্য দশ হাজার টাকা পেয়েও ফোন কিনতে পারেনা রাহুল। টাকা গুলির গায়ে যে বড্ড ঘামের গন্ধ।

৫- ভাগ্যবান

১ম বৃদ্ধ: 'বুঝলে জীবন, ছেলে আমার বিদেশে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে, দেশে আসার সময়ই পায় না। নাতিটাকে মাঝে সাঝে ভিডিও কলে দেখি।' 

২য় বৃদ্ধ : 'আপনি ভাগ্যবান অরুণ দা, আমার ছেলেটা তো ওই সামান্য একটা কারখানায় কাজ করে। আজ চলি গো, নাতনীটা আবার গল্প না বললে খেতে চায়না। আর আমার ওষুধ খেতে দেরি হয়ে গেলে বৌমা আবার রাগারাগি করবে। কাল দেখা হবে না, ছেলে হাফ ছুটি করে সবাইকে নিয়ে দক্ষিনেশ্বর যাবে বলেছে।'

৬- পার্থক্য 

প্রশ্ন ছিল সভ্য মানুষ এবং বন্যপ্রাণীদের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
খাতা দেখতে বসে একটি লেখা পড়ে চমকে উঠলেন শিক্ষক। ছাত্রটি লিখেছে সভ্য মানুষ আর বন্যপ্রানীদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো বাঘের বাচ্চা সব সময় বাঘই হয়, কিন্তু মানুষের বাচ্চা যে সব সময় মানুষই হবে তার কোনো মানে নেই।

Monday, 15 November 2021

ওকালতি!!

ল-কলেজের একদল ছাত্র একজন দুঁদে উকিল সাহেবকে জিজ্ঞেস করল, " স্যার, ওকালতি শব্দের অর্থ কী?"

উকিল সাহেব বললেন," এজন্য একটা উদাহরণ দিই: ধর, দুজন লোক আমার কাছে এলো। একজন খুব সাফসুতরা অন্যজন বেজায় নোংরা। আমি ওদের দুজনকে পরামর্শ দিলাম চান করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হতে। এখন তোমরা বল, দুজনের মধ্যে কে চান করবে?"

এক ছাত্র বলল," যে নোংরা সেই চান করবে।"
উকিল: উঁহু, কেবল পরিষ্কার লোকটিই এমন করবে... কেননা তার চান করার অভ্যাস আছে। নোংরা লোকটা তো পরিস্কার থাকার গুরুত্বই বোঝে না! বল এবার, কে চান করবে? "

আরেকজন ছাত্র বলল, "পরিষ্কার লোকটি।"
উকিল: না, নোংরা লোকটা চান করবে। কেন না তার পরিস্কার হওয়াটা দরকার, সেটা তার প্রয়োজন, তাই গুরুত্ব বুঝুক বা না বুঝুক চান তাকে করতে হবে। এখন বল দেখি কে চান করবে?

দুজন ছাত্র একসাথে বলে উঠল," যে নোংরা সে!"
উকিল: না, না দু'জনেই চান করবে। সাফ লোকটার অভ্যাস চান করা আর নোংরা লোকটার প্রয়োজন চান করা। এখন বল কে চান করবে?"

তিন ছাত্র মিলে বলল, "হ্যাঁ, দুইজনেই করবে তাহলে।"
উকিল: আবার ভুল, চান কেউই করবে না। কেন না, নোংরা লোকটার তো চান করার অভ্যাস নেই, তাকে প্রয়োজনের কথা বলা হলেও সে অগ্রাহ্য করবে আর পরিষ্কার ব্যক্তির চান করার দরকার নেই তাই সেও চান করতে বলা হলে অগ্রাহ্য করবে। এখন বল, কে চান করবে?"

এক ছাত্র সবিনয়ে বলল, "স্যার, আপনি এক এক বার এক এক রকম জবাব দিচ্ছেন আর আমাদের কাছে সব জবাবই ঠিক মনে হচ্ছে। সঠিক উত্তর আমরা কি করে বুঝব?"
উকিল: বাস্ এটাই তো ওকালতি... বাস্তব কি এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ হল তুমি নিজের বক্তব্য সঠিক প্রমাণ করার জন্য কতগুলো সম্ভাব্য যুক্তি উপস্থাপন করতে পার সেটাই দরকারী।"  

কি বুঝলে?
বোঝ নি? 
এটাই ওকালতি!!
😝😂😂

Thursday, 30 September 2021

কাক মা - কোকিল মা

কাক-মা জানত তার বাসায় কোকিলের ডিম।

সে চুপিসারে কোকিল-মাকে তার বাসা থেকে বেরোতে দেখেছিল। বাসায় ফিরে সে গুণে দেখেছিল, তার বাসায় ডিমের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটেছে।

জানলেও সে কিচ্ছুটি বলল না কাউকে। ধৈর্য ধরে ডিমে তা দিল, বাচ্চা হলে তাকে পোকাটা-মাকড়টা খাইয়ে বড় করল। সে জানত, এই অবোধ শিশু একদিন ভিনস্বরে গেয়ে উঠবে গান, আলাদা করে নেবে নিজেকে।

সবই জানত কাক-মা, কিন্তু বুঝতে দিল না কাউকে।

সবাই ভাবল, তার মত বোকা আর কেউ হয় না, তাকে বারবার বোকা বানিয়ে যায় কোকিল-মা। দুনিয়ার কাছে বোকা হয়েও সে চুপ করেই থাকল, নইলে কি হত কোকিলের ছানাগুলোর? জন্মই যে হত না তাদের! জন্ম না হলে কেই বা গাইত বসন্তদিনের অমন বন-মাতানো মন-মাতানো গান ? মা যে তাদের উড়নচণ্ডী ! বাসা বানানোর ধৈর্য নেই, সারাক্ষণ শুধু উড়ে-উড়ে সুরে-সুরে ঘুরে-ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তাকে অবশ্য দোষ দেয় না কাক-মা। সবাই কি আর একরকম হয়? সে নিজে কি অমন গাইতে পারবে কোনদিন? যে পারে সে নাহয় একটু কম সংসারী হলই! তার ছানাদের বড় করে দিতে কোনও আপত্তি নেই কাক মায়ের। এক-একজন এক-এক ধারার বলেই না এত রঙ, এত রূপ, এত সুর এই জগতটায় !

কোনও এক বসন্তদিনে নিজের বাসায় বসে দূরে কোনও কোকিলের কুহুরব শুনে স্বরটা কেমন চেনা চেনা লাগে কাক-মায়ের। খুশিতে তৃপ্তিতে চোখ বুজে আসে। মনে মনে কত যে আশীর্বাদ সে করে তাদের! আহা, বাছারা! বেঁচে থাকো। কাক-মাকে নাই বা মনে করলে, মধুর গানে ভুবনখানি ভরে রাখো।

দুনিয়ার সবাই তাকে বোকা ভাবলেও একজন কিন্তু ঠিকই চিনেছে তাকে। নইলে কেনই বা সে ডিম পাড়বার সময় হলেই বারবার সেই কাক-মায়ের বাসাতেই ফিরে ফিরে আসে? কাক-মা আর কোকিল-মায়ের এ এক অদ্ভুত সম্পর্কের রসায়ন।

মানবতার অনেক রূপ

একটা ছেলে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। হঠাৎ তার সামনে একটি চীনা ভদ্রলোক গাড়ী চাপা পড়লো। তাকে সবাই মিলে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে যে যার সরে পড়লো, কিন্তু সরলো না ঐ ছেলেটি। তার নাম রতন। রতন সারারাত হাসপাতালে বসে থেকে ভোরের দিকে যখন লোকটির হুঁশ ফিরলো, তখন তাকে দেখতে গিয়ে রোগীর বেডের মাথার কাছে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো।
চীনা ভাষা রতন বোঝে না, কিন্তু চীনা মরণাপন্ন লোকটি বারবার হাতজোড় করে, চোখে জল নিয়ে বলে চললো-- সু তাই কোয়াং তির সাই। কিছুক্ষণ চোখের জলে ভেসে করুণ কন্ঠে এই কথা বলার পর লোকটি চিরকালের জন্য চোখ বন্ধ করলো।

ঘটনাটা এখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু রতন তো শেষ হতে দিলো না। রতন বিভিন্ন সূত্র জোগাড় করে নিজের টাকায় পৌঁছে গেল চীনের হুনান প্রদেশে, ঐ লোকটির একমাত্র পুত্র এবং তার স্ত্রীর বাড়িতে। মৃত্যুর সংবাদ আগেই এসেছিল। রতন কিছুক্ষণ ইতস্ততঃ করে সিক্ত কন্ঠে নিজের মনেই বলে উঠলো-- সু তাই কোয়াং তির সাই।

লোকটির ছেলেটি ভীষণ চমকে উঠে ইংরাজিতে বললো- আপনি হঠাত এই কথা বলছেন কেন?

রতন বললো- এর মানে কি?

ছেলেটি হতভম্ব হয়ে বললো-- এর মানে, শুয়োরের বাচ্চা, অক্সিজেন পাইপের থেকে পা টা সরা।

এরপর রতন ভারতে ফিরে এলো।
🤣🤣🤣

পুলিশের কবলে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়

১২ই সেপ্টেম্বর বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের জন্মদিন। মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মারা যান বিভূতিভূষণ। মৃত্যুর তিন বছর আগে একমাত্র ছেলে তারাদাস বন্দোপাধ্যায়(১৯৪৭-২০১০) জন্মগ্রহণ করেন। পুত্র তারাদাস বন্দোপাধ্যায়ের স্মৃতিকথা থেকে পাওয়া।

 তারাদাস বাবুর বয়েস তখন অল্প, বছর বাইশ তেইশ হবে। পাড়ার একজন দাদা স্থানীয় লোক অবসরপ্রাপ্ত ডাকসাইটে পুলিশ অফিসার পঞ্চানন ঘোষালের সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন শুনে তারাদাসবাবুও চললেন তার সাথে। বাঙালির শার্লক হোমস এই পঞ্চানন ঘোষাল(১৯০৭-১৯৯০) অপরাধ বিজ্ঞান সাহিত্যের জনক। ক্রিমিনাল সাইকোলজিতে ডক্টরেটধারী প্রথম ভারতীয়। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের নির্দেশেই ক্রাইম উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলেন। তারাদাস বন্দোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর মুগ্ধ পাঠক। সুতরাং পাড়ার দাদার সাথে পঞ্চানন ঘোষালের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তিনি হাতছাড়া করতে চাইলেন না। গেলেন তাঁর কাছে এবং সঙ্গের দাদা পরিচয় করিয়ে দিলেন...বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে, শুনে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকলেন পঞ্চাননবাবু। তারপর বললেন , "তোমার বাবাকে একবার পুলিশ অ্যারেস্ট করেছিল,জানো ?"।

তারাদাসবাবু বলে উঠলেন , "অসম্ভব। কখনো হতে পারে না। আমি সকলের মুখ থেকে শুনে বা পড়ে যা জেনেছি তাতে কখনো তা হতে পারে না। আমার বাবা কোনোদিন সেরকম ছিলেন না"। 
--"সেসব তোমার জানতে পারার কথা নয়, তাই জানতে পারনি । জোড়াবাগান থানায় গিয়ে খোঁজ করলে পেতে পারো। অবশ্য অত পুরোনো রেকর্ড আছে কি না কে জানে। আসল কথাটা আগে শোনো, সন্ধ্যার মুখে বাইরের কাজ টাজ সব সেরে থানায় ফিরেছেন বড় বাবু। থানার কাজকর্মের খোঁজ নেওয়া চলছে তখন। হাজত-বাবু হাজতে যারা ছিল তাদের বের করে এনে বড় বাবুর সামনে হাজির করল। বড় বাবু সব শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে রাখা হবে , কাকে ছাড়া হবে। যাদের বের করা হল তাদের মধ্যে ধুতি শার্ট পরা একজন ভদ্রলোককে দেখে বড় বাবু জিজ্ঞেস করলেন, "আরে এ তো ভদ্রলোক দেখছি , এ আবার কী করল"। 

হাজত বাবু বলল,"স্যার , উনি ঐখানে থানার দেওয়ালের খাঁজের মধ্যে পেচ্ছাপ
করছিলেন"।
 
"অ্যাঁ, থানার দেওয়ালে পেচ্ছাপ ? দেখে তো মনে হচ্ছে শিক্ষিত , পোশাকে আসাকে তো বেশ ভদ্দরলোক, ভদ্দরলোক লাগছে, খোলা জায়গায় এসব করতে নেই জানেন না ?"

--- "আর কোনোদিন হবে না। বিশ্বাস করুন, না পেরে বাধ্য হয়ে করে ফেলেছি। খুব জোর চেপেছিল, কোথাও কোনো টয়লেট খুঁজে পাই নি। আর পারছিলাম না, কাপড়ে চোপড়ে হয়ে যেত। তাই একটু আড়াল দেখতে পেয়ে এখানে করে ফেলেছি। এটা যে থানা বুঝতে পারিনি ।"

--- "কাপড়ে চোপড়ে হয়ে যেত বলে অন্যের বাড়ির দেওয়ালে পেচ্ছাপ করবেন ? থানার কথা নাহয় বাদই দিলাম । কী করেন ?"

--- "আজ্ঞে আর হবে না । আমি শিক্ষকতা করি ।"

--- "শিক্ষকতা করেন ? কোন স্কুল ?"

--- "খিলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুল।" ধর্মতলাস্থ স্কুলটির তখন বেশ নাম ডাক ছিল।

--- "ওরে বাবা, অমুক স্কুল ? স্কুলটা কোথায় জানেন ?"

--- "বিশ্বাস না হলে ফোন করে দেখতে পারেন। আমার কাছে ফোন নাম্বার আছে দিতে পারি"।

ফোন নাম্বার নিয়ে ফোন করে দেখলেন বড় বাবু। কথা সত্যি। এবার আরো ঝেঁঝেঁ উঠলেন। "তাহলে তো সোনায় সোহাগা , মাস্টারমশাই হয়ে এসব করছেন, ছাত্ররা কী শিখবে ?"।

--- "বলছি তো ভুল হয়ে গেছে। আগে কখনও হয়নি। অবস্থার ফেরে হয়েছে আর কখনো হবে না"।

বড়বাবুর চোখ মুখ দেখে কোনো আশা পাচ্ছিলেন না ভদ্রলোক। ভাবছিলেন হয়ত আবার কোন কেস লাগিয়ে কোর্টে পাঠিয়ে দেবে। লোক জানাজানি হবে, হয়রানির শেষ থাকবে না। তাই বড় বাবুর সহানুভূতি আদায় করার জন্য বললেন, "এ ছাড়া আমি একটু লেখালিখিও করি"।

-- "আচ্ছা ! তা কী লেখেন শুনি" ?

-- "গল্প, উপন্যাস, এইসব"।

-- "কী উপন্যাস ?"

-- "আপনি নাম শুনেছেন কি না জানি না,আমার একটা লেখা একটু নাম করেছে,'পথের পাঁচালী'।"

--- "এবার ঠাটিয়ে একটা চড় কষাব। অনেক সহ্য করেছি। 'পথের পাঁচালী' কার লেখা জানেন ?"

--- "আজ্ঞে, আমার লেখা, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন আপনাকে নাম বললাম তো যখন স্কুলে ফোন করলেন !"

 বড়বাবু অবাক দৃষ্টিতে মুখের দিকে চেয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। কী যেন পড়বার চেষ্টা করলেন। তারপর বিস্ময় তার কণ্ঠস্বরে।
--- "আপনি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ?"

বলতে বলতে বড় বাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে টেবিলের পাশ দিয়ে ঘুরে এসে তথাকথিত "আসামীর" পায়ের উপর গড় হয়ে পড়লেন তিনি। মাথা ঠুকে ঠুকে প্রণাম সেরে উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, "যান, মুতুন, মুতুন, এই থানার যেখানে খুশি মুতুন, যত খুশি মুতুন, পূণ্যভূমি হয়ে উঠবে এ থানা ।"

 এই পর্যন্ত বলে পঞ্চাননবাবু বললেন তারাদাসবাবুকে,"বুঝলে , সত্যি সত্যিই তোমার বাবাকে পুলিশে ধরেছিল"।

তারাদাসবাবু বললেন, "এ আপনার বানানো গল্প। আপনি লেখক মানুষ, সামান্য একটু কিছু কারো কাছে শুনেছেন হয়তো, তাই দিয়ে এত সুন্দর একটা গল্প বানিয়ে ফেললেন"।

--- গল্প হবে কেন ? আর, অন্যের মুখ থেকেই বা শুনতে হবে কেন ? সেদিনের সেই বড়বাবুটা যে আমিই। আমিই সেই পঞ্চানন ঘোষাল যিনি পুণ্য অর্জন করেছিলাম।।

Tuesday, 28 September 2021

দুই বিঘে জমির মর্ম কথা

সেদিন ক্লাসে বাংলার স্যার পচাকে জিজ্ঞেস করল, "বলতো পচা, রবিঠাকুরের দুই বিঘা জমি কবিতায় সবথেকে পাজি এবং বদমাশ লোকটা কে?"

"এটা কি কনো প্রশ্ন হলো স্যার? এটাতো সবাই জানে যে, সবথেকে পাজিএবং বদমাশ লোকটার নাম উপেন, আর ভালো লোকটা হলো জমিদার।"

"আমাকে বোঝা হতচ্ছাড়া,, উপেন কিকরে পাজি হলো আর রাজা কি করে ভালো হলো। আর যদি বোঝাতে না পারিস আমি মেরে তোর ঠেং খোড়া করে রেখে দেবো।"

"এ আর এমন জটিল কি? আপনি মনেহয় পুরো কবিতাটাই ঠিক মতো পড়েননি, যদিও বা পড়েছেন ঠিকমতো বুঝেউঠতে পারেননি স্যার? 

দেখুন কবিতার শুরুতেই আছে "শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋনে।"
উপেন যৌবনে রোজগার বলতে কিছুই করেনাই,
ঋন করে ভালোমন্দ খেয়ে জমি বিক্রি করে পরিশোধ করেছে, এখন যখন মাত্র দুই বিঘা জমিতে এসে ঠেকেছে তখন জমির প্রতি দরদ যেন উথলে উঠছে।

এবার আসাযাক উপেনের ছাত্রাবস্থার কথায় -
"একে একে মনে উদিল স্মরনে বালক - কালের কথা।
সেই মনে পড়ে জ্যেষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম -
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম :
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা - পলায়ন -"
এবার ভাবুন সকাল দুপুর রাত্রি শুধুই আমের চিন্তায় মসগুল, পড়াশোনা করার বালায় নাই, এতো পাজি যে স্কুলে যাতে পড়াশোনা করতে না হয় তার জন্য সেখানেও ফাঁকি। যদি জীবনে পড়াশোনাটা ঠিকঠাক করতো তাহলে টিপছাপ দিয়ে দুই বিঘা জমিটা রাজা চালাকি করে নিতে পারতো না।

এবার আসি উপেনের বার্ধক্য বয়সে -
"মনে ভাবিলাম, মোরে ভগবান রাখবে না মোহগর্তে, 
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে।
সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য"।

এই পর্যন্ত পড়ে ভেবে ছিলাম শেষ বয়সে এসে ফাঁকিবাজ উপেন এবার বোধহয় ধর্ম কর্মে মনদেবে, কিন্তু ভবি ভোলবার নয়, সাধুসঙ্গ ছেড়ে সেই আমতল, ওখানেও ফাঁকি। ওরে পাগলা দুই বিঘার মোহ কাটাতে পারছিস না, আর তুই হবি সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী???
অন্যদিকে জমিদারটাকে দেখুন কি সুন্দর অমায়িক ব্যবহার।
"বাবু বলিলেন, বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।"

লাইনটা লক্ষ্য করুন, চুরি বলেনি, বলেছে কিনে নেবো। তাছাড়া অতবড় একজন মানুষ তার কনো অহংকার নেই, উপেনের মতো অকাট মুর্খকে পর্যন্ত তুমি তুমি করে কত মিষ্টি ভাবে কথা বলছে।

"বাপু, জান তো হে, করেছি বাগানখানা, 
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীঘে সমান হইবে টানা। "

শুধু সৌখিন মানুষ নয়, পরিবেশ সচেতনও বটে... সুন্দর একখান বাগান করার স্বপ্ন দেখছেন। নগদ মূল্যে দামদিয়ে জায়গাটা কিনে বাগান করবেন বলে মনস্থির করেছেন। এটা উপেনের সহ্য হলো না, যে যৌবনে সব বিক্রি করে পেটায় নমো করলো, আর বৃদ্ধ বয়সে এটা নগদে বিক্রি করতে ওর গায়ে লাগছে। আসলে তা নয়, আসল কথা হল হিংসে জমিদারের বাড়বাড়ন্ত দেখে হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে, অন্যের ভালো দুচোখে সহ্য করতে পারে না । নিজে তো কিছু করতে পারেনি, তাই সুন্দর বাগান করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা সমাজেরও ক্ষতি..
এবার আপনিই বলুন স্যার কে ভালো আর কে খারাপ?

(আজ নিয়ে সাতদিন হলো স্যারের জ্ঞান ফেরেনি..... হয়তো কোভিড2 আক্রান্ত.....)

কনট্যাক্ট এবং কানেকশন

একদিন এক সাংবাদিক এক সন্যাসীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন।
সাংবাদিক- আপনার গতকালের বক্তৃতায় আপনি বলেছেন, কনট্যাক্ট এবং কানেকশন। আমি দ্বিধায় আছি। একটু ব্যাখ্যা করবেন?
সন্যাসী মৃদু হাসলেন এবং আপাত দৃষ্টিতে প্রশ্ন থেকে নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে বললেন- আপনি নিউইয়র্কে থাকেন?
- হ্যাঁ।
- বাড়িতে কে কে আছেন?
সাংবাদিক ভাবলেন উনি প্রশ্নটা এড়াতে চাইছেন, তাই এরকম ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করছেন। তবুও বললেন- মা মারা গেছেন। বাবা আছেন। আর তিন ভাই ও এক বোন। সবাই বিবাহিত।
সন্যাসী মৃদু হেসে বললেন- বাবার সঙ্গে কথা হয়?
সাংবাদিক বিভ্রান্ত।
সন্যাসী জিজ্ঞেস করলেন
- বাবার সঙ্গে শেষ কবে কথা হয়েছে?
সাংবাদিক নিজের বিরক্তি চেপে রেখে বললেন- মাস খানেক হবে।
সন্যাসী- তোমাদের ভাইবোনদের মাঝে মধ্যেই দেখা হয়? শেষ কবে ফ্যামিলি গেট টুগেদার হয়েছে?
সাংবাদিক যথেষ্ট ঘামতে শুরু করেছেন।
মনে হচ্ছিল যেন সন্যাসীই সাংবাদিকের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।
লজ্জাবনত হয়ে উত্তর দিলেন- দুবছর আগে খ্রিস্টমাসের সময়।
- সবাই একসঙ্গে কদিন কাটিয়েছিলেন?
- দুদিন।
-বাবার পাশে বসে ছিলেন কতক্ষণ?
সাংবাদিক বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
- আপনারা কি একসঙ্গে ব্রেকফাসট, লাঞ্চ, ডিনার করেছিলেন? উনি কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করেছিলেন? মা মারা যাওয়ার পর কি ভাবে উনি সময় কাটাচ্ছেন, জিজ্ঞাসা করেছিলেন?
সাংবাদিকের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।
সন্যাসী তাঁর হাত ধরে বললেন- লজ্জিত হবেন না। অনুশোচনা করবেন না। আমি দুঃখিত আপনাকে অজান্তে আঘাত দিয়ে থাকলে। আসলে এটাই আপনার প্রশ্নের উত্তর ।
বাবার সঙ্গে আপনার কনট্যাক্ট আছে কিন্তু কানেকশন নেই। কানেকশন হৃদয়ে হৃদয়ে হয়। একসঙ্গে বসা, খাবার ভাগা ভাগি করা খাওয়া। একে অপরের খেয়াল রাখা, স্পর্শ করা, হ্যান্ডশেক করা, চোখে চোখ রাখা, একসঙ্গে সময় কাটানো। আপনাদের সব ভাই বোনের কনট্যাক্ট আছে কিন্তু কানেকশন নেই।
.
.
*আজকে এটাই বাস্তব*
 
অনেকেই গর্ব করে বলি আমার হাজার হাজার কনট্যাক্ট আছে।
কিন্তু কানেকশন?

Friday, 17 September 2021

মহালয়া




- ও দাদা, নমস্কার, শুভ মহালয়া।

- মানে!

- মানে আবার কি, পূজো শুরু হয়ে গেল তাই বললাম।

- মানে!

- দূর মশাই, এর আবার মানে মানে কি?

- মানে, জানতে চাইছি, মহালয়ার সঙ্গে পূজোর কী

সম্পর্ক? এ তো আচ্ছা ক্ষ্যাপা লোক! মহালয়া মানেই তো দেবীর আগমনের শুরু, পূজো শুরু, এই যে দেখুন মা দুর্গার

মুখের ছবি দিয়ে 'শুভ মহালয়া' লিখে কত ছবি। - শুনুন, মহালয়ার সঙ্গে দুর্গাপূজোর আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। যারা মা দুর্গা'র ছবির সঙ্গে 'মহালয়া' লিখছে তারা

নিজেরাও জানেনা কত বড় ভুল করছে।

- যাঃ বাব্বা....! বলে কি, এতো সবজান্তা দেখছি।

- সবজান্তা নই, তবে এটুকু জানি যে, দুর্গাপূজোর সঙ্গে

এর কোনো সম্পর্ক নেই। -বললেই হলো নেই! সকালে রেডিওতে মহালয়া শোনেন না আপনি?

- ওটা মহালয়া নয়। ওটা 'মহিষাসুরমর্দিনী' নামের একটি অনুষ্ঠান। এর সঙ্গেও মহালয়া'র কোনো সম্পর্ক নেই। এই

দিনে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হয়, এই পর্যন্তই। - তাহলে মহালয়াটা কি ঘোড়ার ডিম, খায়, না মাখে?

- মহালয়া কথাটি এসেছে 'মহৎ আলয়' থেকে। হিন্দু ধর্মে মনে করা হয় যে পিতৃপুরুষেরা এই সময়ে পরলোক থেকে ইহলোকে আসেন জল ও পিণ্ডলাভের আশায়। প্রয়াত পিতৃপুরুষদের জল-পিণ্ড প্রদান করে তাঁদের 'তৃপ্ত' করা হয় বলেই মহালয়া একটি পূণ্য তিথি।

- সে তো জানি। ঘাটে ঘাটে সব মন্ত্র ফন্ত্র বলে। তাতে কী

হল? পুজোর আগে জল টল দিয়ে শুদ্ধ করা হল।

-শুদ্ধ, অশুদ্ধের ব্যাপার নয়। এর সঙ্গে মহাভারতের যোগ

আছে।

-কেলো করেছে। এখানেও মহাভারত?

- আজ্ঞে হ্যাঁ। মৃত্যুর পর কর্ণের আত্মা পরলোকে গমন করলে তাঁকে খাদ্য হিসেবে স্বর্ণ ও রত্ন দেওয়া হয়েছিলো। কর্ণ এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয়, তিনি সারা জীবন স্বর্ণ ও রত্ন দান করেছেন, কিন্তু প্রয়াত পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কখনও খাদ্য বা পানীয় দান

করেননি। তাই স্বর্গে খাদ্য হিসেবে তাঁকে সোনাই দেওয়া হয়েছে।

বিমর্ষ কর্ণ বলেন, তাঁর পিতৃপুরুষ কারা সেটা তো তিনি মৃত্যুর মাত্র একদিন আগেই জানতে পেরেছেন। তার দোষ কোথায়! যমরাজ তখন বোঝেন, সত্যিই তো, এতে কর্ণের কোনো দোষ নেই। এই কারণে কর্ণকে পক্ষকালের জন্য ফের মর্ত্যে ফিরে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়।

এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। আর সেই

হিন্দুদের মধ্যে তর্পণের প্রথা চালু হয়।

- এ তো হেব্বি ক্যাঁচাল। এত সব তো জানতাম না।

- আরো শুনে রাখুন, পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের তিথি হিসেবে নির্দিষ্ট হওয়ায় একে 'শুভ' বলতে নেই।

- সে কি! শুভ মহালয়া বলবো না তাহলে? - না, বলবেন না। আপনার প্রিয়জনের শ্রাদ্ধের দিন কেউ

যদি আপনাকে 'হ্যাপি শ্রাদ্ধ' বা 'শুভ শ্রাদ্ধ' বলে, কেমন লাগবে?

আপনার

- হেব্বি মাথা গরম হয়ে যাবে। কিন্তু আমি তো না বুঝেই বলেছি।

- এমন না বুঝেই তো আমরা কতকিছু বলি। এবার বুঝলেন তো?

-বুঝলাম, তবে অভ্যাস বড় বালাই। এতদিনের অভ্যাস কি সহজে যাবে? আমরা হলাম গিয়ে 'পাবলিক', লোকে বলে তাই বলি। তা আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগলো। আপনি ভালো থাকবেন। 'শুভ মহালয়া' দাদা। চলি এবার।

Popular Posts