-"মা, চারটে বেজে গেছে। তুমি রেডি তো ?"
গাড়ির চাবিটা নিতে নিতে বললো রোহিত।
-"হ্যাঁ। দাঁড়া, জুতোটা পড়ি।"
বৌমা সুস্মিতা এসে সামনে দাঁড়ালো। মুখে হাসি। বললো-"সাবধানে নিয়ে যেও মাকে।'' ....
হাসলেন নিরুপমা। এখনো চিন্তা করে বৌমা! ওকে তো কখনো ভালোবাসতে কার্পণ্য করেননি উনি! তবু শেষে ওনার ঠিকানা হবে বৃদ্ধাশ্রম! ভালোই হয়েছে রোহিতের বাবা আর নেই। থাকলে এত বড় ধাক্কা নিতে পারতেন না উনি।
...
ছোট্ট রোহিত কত বায়না করতো। সব মেটাতে পারতেন না নিরুপমা। মা হয়ে খুব খারাপ লাগতো। তবু ধৈর্য হারাননি। প্রাণপণে স্বামীর ব্যবসায় সঙ্গে থেকেছেন। রোহিতকে বড় করেছেন। রোহিত আজ কত বড় চাকরি করে! তখন বাড়ি ছিলো একতলা। দু'টো বেডরুম, কিচেন আর বাথরুম। সেই বাড়ি এখন আর চেনা যায় না। রোহিতের বাবাই দোতলাটা করে ফেলেছিলেন, রোহিত সেটাকে সুন্দর করে সাজিয়েছে। দামী দামী আসবাব, সাজানোর জিনিস, মেঝেতে দামী মার্বেল। কী সুন্দর ছিলো সবকিছু। রোহিতের বিয়ে দিয়েছিলেন কত ধুমধাম করে। মেয়ে অবশ্য রোহিতের আগেই পছন্দ ছিলো! সুস্মিতাকে একবার দেখেই ভীষণ পছন্দ হয়ে গিয়েছিলো নিরুপমার। হবে নাই বা কেন! ক'জন মেয়ে আছে সুস্মিতার মতো! নিজের মেয়ের মতো আপন করে নিয়েছিলেন সুস্মিতাকে। হয়তো এত সুন্দরের মাঝে উনি নিজেই বেমানান। চারদিকে এত নতুনের ভীর, এত ঔজ্জ্বল্য, হয়তো উনি নিজে এসবের সঙ্গে একদমই খাপ খান না বলে এই ডিসিশন!
.
.
পরশুদিন খাবার টেবিলে প্রথম বৃদ্ধাশ্রমের কথাটা ওঠে। ছেলে প্রথমে বলতে পারেনি, সুস্মিতাই বললো-"মাকে যেটা বলবে বলছিলে বলো!"
খাওয়া থামিয়ে মুখ তুলে ছেলের দিকে তাকিয়েছিলেন নিরুপমা।
-"মা, একটা বৃদ্ধাশ্রম নতুন বানানো হয়েছে, ঘরদোর ঠিকঠাক, সিকিউরিটিও ভালো। তুমি যদি একবার দেখে আসতে তো খুব ভালো হতো!"-
মাথা নিচু করে খেতে খেতেই বলেছিলো রোহিত। নিরুপমার পৃথিবীটা হঠাৎ অন্ধকার হয়ে গেছিলো। এতদিনের চেনা বাড়ি, গোছানো সংসার, ছেলে- বৌমা সব ছেড়ে বেড়িয়ে যেতে হবে! চোখ ফেটে জল আসতে চাইছিলো, তবু কাঁদেননি নিরুপমা। বরাবর মাথা উঁচু করে বেঁচেছেন। যতদিন বাঁচবেন কারো কাছে কিছু চাইবেন না, ছেলের কাছেও না। তবে এখন ক'টাদিন উনি থাকলে ভালো হতো। সুস্মিতা আর ক'দিন পরে মা হবে। উনিই দেখাশোনা করছেন। যাই হোক, ও মায়ের কাছে চলে যাবে বোধহয়। হয়তো নতুন প্রাণের গায়ে পুরোনোর আঁচর লাগতে দিতে চায়না বলেই রোহিতের এই ডিসিশন।
.
.
সেদিন রাতে খেয়ে যাওয়ার পর টুকটাক কথা শুনতে পাচ্ছিলেন ছেলে বৌমার। সুস্মিতা কী যেন বলছিলো জায়গা জায়গা করে । রোহিতের মুখ থেকে 'যে আসছে' কথাটাও শোনা গেল বার দু'য়েক। ছোট একটা বাচ্চার এত বড় বাড়িতে জায়গা করে দিতে নিরুপমাকে বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে! তাই হোক তবে!
.
.
গাড়ি থেকে নামতে নামতেই ভেতরটা দেখা গেল। শহর ছাড়িয়ে শান্ত জায়গায় অনেকটা জায়গা নিয়ে ছোটো ছোটো তিনটে বাড়ি। আরো কাজ চলছে। সামনে পেছনে বাগান করা চলছে। পেছনে যতদূর চোখ যায় মাঠ। বুক ভরে নিশ্বাস নিলেন নিরূপমা। আঃ! সেই ছোটবেলার স্বাদ। সংসারের চাপে কবে যে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে ভুলে গেছিলেন বুঝতেই পারেননি।
-"এসো মা!"- সামনে এগোতে এগোতে বললো রোহিত।
ছেলের পিছু পিছু বাইরের গেটের সামনে এলেন নিরুপমা। গেটটা বেশ উঁচু। বড় বড় করে লেখা-'নিরুপমা বৃদ্ধাশ্রম '।
ওনার নামেই নাম ? হঠাৎ বিদ্যুৎঝলকের মতো পুরোনো কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেল নিরুপমার। রোহিতের বাবার খুব ইচ্ছে ছিলো একটা ওল্ড এজ হোম বানানোর। নিজের বাবা মাকে খুব ছোটবেলায় হারিয়েছিলেন উনি। খুব করে চাইতেন কেউ বাবার মতো আগলে রাখুক, মায়ের মতো শাসন করুক। হয়ে ওঠেনি। নিজে যা পাননি অন্যেরা তা পেয়েও যখন অবহেলা করতো তখন কষ্ট পেতেন খুব। কতদিন বলেছেন-"অবস্থাটা ফিরুক। আমি ঠিক একটা সুন্দর বৃদ্ধাশ্রম বানাবো যেখানে শেষ জীবনটা খুব শান্তিতে কাটানো যায়।"
ততটা সময় পাননি উনি। তবে কি...হঠাৎ নিরুপমার চোখ জ্বালা করে জলে ভরে এল। ততক্ষণে ভেতরের অল্প কিছু সমবয়সী মানুষজন নিরুপমাকে দেখার জন্য ভীর জমিয়েছেন। সবার হাতেই কিছু না কিছু উপহার।
-"হ্যাপি বার্থডে মা! "- হাতে একগোছা ফুল নিয়ে মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিল রোহিত। সঙ্গে সঙ্গে সবাই মিলে চেঁচিয়ে উঠলো-"হ্যাপিইইই বার্থডে-এ-এ!!!"
সত্যিই তো! মনেই ছিলো না একদম। ইস! ছি ছি! কত খারাপ ভাবছিলেন শুধু শুধু।
-"তুমি খুশি তো মা ?"
-"খুব খুশি! খুব!"- রোহিতের হাতটা ধরতে ধরতে বললেন নিরুপমা-"এত সুন্দর গিফট কোনো ছেলে কখনো কোনো মাকে দিতে পারেনি।"
ট্যাক্সি থেকে নামছে সুস্মিতা। আস্তে আস্তে হেঁটে এসে বললো-"তোমাকে সব সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে হবে কিন্তু। এখন আমি বারবার এখানে আসতে পারবো না।"
-"মাকে উইকএণ্ডে একবার করে নিয়ে আসবো। মা দেখাশোনা করবে। কাজকর্মের জন্য তো এখানে আছে অনেকে।"- রোহিত বললো।
সুস্মিতাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন নিরুপমা। মাঠের শেষে তখন লাল আলো ছড়িয়ে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। লালচে সোনার রঙে ভেঙে ভেঙে ছড়িয়ে পড়ছে খুশি !!!
Monday, 6 May 2019
অভিনব বৃদ্ধাশ্রম !!
Saturday, 20 April 2019
অজগর
এক মহিলা একটা অজগর সাপ পুষতো।
সাপটাও মহিলাকে অসম্ভব ভালবাসতো। অজগরটা লম্বায় এবং দেখতেও বেশ স্বাস্থ্যবান ছিল।
একদিন হঠাৎ তার আদরের অজগর খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিল।
কয়েক সপ্তাহ চলে গেল, কিন্তু সাপ কিছুই খায় না।
আদরের সাপের এমন অবস্থায় মহিলা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল এবং উপায়-বুদ্ধি না পেয়ে শেষমেশ সাপটাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার সাহেব মনযোগ দিয়ে সব শুনলেন এবং জানতে চাইলেন- সাপটা কি রাতে আপনার সাথে ঘুমায়?
মহিলা উত্তর দিল- হ্যাঁ। -
ঘুমানোর সময় এটা আস্তে আস্তে
আপনার কাছে ঘেঁসে? - হ্যাঁ -
তারপর আস্তে আস্তে আপনাকে চারপাশে মুড়িয়ে ধরে? মহিলা বিস্মিত হলেন এবং জবাব দিলেন-
এইবার চিকিৎসক খুবই ভয়ানক এবং
অপ্রত্যশিত কিছু বললেন।
- ম্যাডাম, সাপটি কাছে কাছে থাকে, আপনাকে জড়িয়ে ধরে, চারপাশ থেকে মুড়িয়ে ধরে, কারণ এটা আপনার মাপ নিচ্ছে।
নিজেকে প্রস্তুত করছে আপনাকে আক্রমণ করার জন্য।
এবং হ্যাঁ,
সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করেছে যথেষ্ট জায়গা খালি করতে, যাতে সহজেই আপনাকে হজম করতে পারে।
# মোড়াল_অব_দা_স্টোরি
আপনার চারপাশে হয়ত এমন অনেকেই আছে যাদের আপনি কাছের মানুষ ভাবেন, যাদের দেখে মনে হয় আপনাকে তারা অসম্ভব ভালবাসে।
হয়ত আপনার ক্ষতিই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
সুভাষচন্দ্র
1947এ স্বাধীনতার দলিলে সই ছিল ক্লিমেন্ট এটলীর, তখন তিনিই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
তারপর যথারীতি নেহেরু গদিতে, গান্ধীজী জাতির জনক।
গোটা বিশ্ব জেনে গেল চরকা কেটে, অহিংসাবাদে ভারত স্বাধীনতা পেল। ইতিহাস ওইভাবে রচিত হলো...আজও জনগণ সেটাই মনে করে।
এর প্রায় নয় বছর পর, 1956 এ ক্লিমেন্ট এটলী আবার একবার আসেন ভারতে।রাত্রিবাস করেন কোলকাতাতে, গেস্ট হাউসে, তৎকালীন গভর্নর স্যার পি. বি. চক্রবর্তীর আথিতেয়তায় ।
পি.বি.চক্রবর্তী জিজ্ঞেস করেছিলেন, প্রায় দুশো বছর শাসন করার পর, এত চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতকে স্বাধীনতা দিল কেন তাঁর দেশ?
এটলী উত্তর দিয়েছিলেন : সুভাষচন্দ্র।
আজাদ হিন্দ বাহিনীর ঘটনার পর, ভারতের তৎকালীন স্থলবাহিনী, জলবাহিনীর সৈনিকেরা ততদিনে নব্বই শতাংশই বিদ্রোহী হয়ে গিয়েছিল মনে প্রাণে। এদের দিয়ে আর ভারতবর্ষ শাসন করা যেত না!
যেকোন মুহুর্তে শুরু হত বিদ্রোহ জানিয়েছিল ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগ। আর যুদ্ধক্লান্ত ব্রিটিশদের সেটা সামাল দেওয়ার মত ক্ষমতা ছিল না।
পি.বি.চক্রবর্তী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন : তাহলে গান্ধীজী? অহিংস আন্দোলনের প্রভাব?
ঘুম জড়ানো চোখে এটলী উত্তর দিয়েছিলেন :
"মি-নি-মা-ল"
"অতি সামান্য প্রভাব ছিল ওসবের"
Monday, 18 March 2019
নচি'দা
সময়টা প্রায় পঁচিশ বছর আগের...আমি তখন চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালে কেমোথেরাপি তে কাজ করি...কিছু রোগী কে আমাদের আউটডোর বেসিস এ কেমো দিতে হত...একদিন তাদের মধ্যেই দেখলাম এক মাতৃস্বরূপা ভদ্রমহিলা কে ...নাম- লতিকা চক্রবর্তী...ওনাকে কেমো করার সময় দেখি একপাল লোকজন নিয়ে এগিয়ে এল এক উদ্দাম বোহেমিয়ান টাইপ দাড়িওয়ালা মানুষ ..." ডাক্তারবাবু , উনি আমার মা । মা আমার সবকিছু । মা'কে কেমো দেবার সময় আপনি আমাকে একটু পাশে থাকতে দেবেন ?..আসলে মায়ের খুব কষ্ট হয় এই কেমো নেবার সময় । আমি আপনাকে কোনরকম ডিস্টার্ব করবনা ..
শুধু মায়ের একটা হাত ধরে থাকব আমি ।"
সেই বলাটার মধ্যেই কিছু একটা ছিল । আমি আর না করতে পারিনি । পরম মমতায় সে জড়িয়ে রইল মা'কে । আদরে ভালবাসায় আর্দ্র তার গলা - " এই তো মা ..আমি আছি...এই তো হয়ে এসেছে ..কোন কষ্ট নেই..দেখো ডাক্তারবাবু কি সুন্দর ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন...না না আর ব্যথা লাগবেনা " । কেমো শেষ হল । ডাক্তারবাবুর চোখে তখন জল ।
সেই প্রথম আলাপ হল মানুষটির সঙ্গে । নাম জিজ্ঞাসা করলাম । পাশ থেকে কেউ একজন বলল " ওর নাম নচিকেতা চক্রবর্তী । গান গায় । এবার পুজোয় ওর একটা ক্যাসেট বেরিয়েছে কিছুদিন আগে । এই বেশ ভাল আছি - ক্যাসেট টার নাম" ।
বাড়ি ফিরে ক্যাসেট টা শুনলাম । কিছুক্ষণ কথা বলতে পারিনি । এই কন্ঠ!! এই গায়কী !! এই বলিষ্ঠ শব্দচয়ন !! এ গায়ক তো সাধারণ নয় । রীতিমতো শিক্ষিত চর্চিত শিল্পী ।
সেই দিন থেকেই উনি আমার নচি'দা হয়ে উঠলেন আর আমি কখনও পার্থ কখনও ডাক্তার।
কয়েক মাস পর চলে গেলেন মাসিমা । দেখা হল নচিদার সঙ্গে ।...." পার্থ , বুঝলি মা কে সঙ্গে নিয়েই সব জায়গায় যাই এখন, আগে বাড়িতে রেখে এদিক ওদিক যেতে হত, অসুস্থ থাকত , আমার দুশ্চিন্তা হত । এখন মা সবসময় আমার সঙ্গে থাকে রে ...শোন মা কে নিয়ে একটা গান করেছি " .......মাখনের মত মোলায়েম কন্ঠ গেয়ে উঠল - " একা একা পথ চলা / একা একা কথা বলা " ...আবার ভিজল ডাক্তারের চোখ ।
বেশ কয়েক বছর পর একদিন গেছি নচিদার নতুন ফ্ল্যাট এ । বেশ বড় আর সুন্দর আধুনিক ফ্ল্যাট । আড্ডা চলছে । গান হচ্ছে । হঠাৎ চোখে পড়ল হলঘরের আধুনিক আসবাব সোফা টোফার মাঝখানে বেশ বেমানান একটা পুরোন দিনের সাদাকালো টিভি । পিছনে লাগলাম একটু ...." নচিদা, তোমার এত পয়সা !!! একটা কালার টিভি কেনোনি ?"
হাসল খানিকটা । তারপর বলল ..." পার্থ এই টিভি টা আমার মা কিনেছিল রে , কষ্ট করে , ইনস্টলমেন্টে .....আমি এই টিভি টাই দেখি , খারাপ হলে সারাই করে নিই , কিন্তু এটা আমি ফেলতে পারিনি রে "
গলার কাছে একটা কষ্ট আটকে রইল আমার। বাসে ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম - হ্যাঁ এই মানুষটা, খালি এই মানুষ টাই পারে " বৃদ্ধাশ্রম" এর মত একটা গান লিখতে ...একমাত্র এরই ক্ষমতা , এরই অধিকার ওই গানে....মা'কে ওই অতটা না ভালবাসলে ওই লেখা কলম দিয়ে বেরোয় না , বেরোতে পারেনা । গানটার শেষ ছত্রে তাই উগরে দিয়েছেন সমগ্র বিশ্বাসঘাতক অপদার্থ সন্তান দের প্রতি রাগ, বিদ্বেষ আর প্রতিশোধস্পৃহা - " আশ্রমের এই ঘরটা ছোট , জায়গা অনেক বেশি / খোকা আমি দুজনেতে থাকব পাশাপাশি / সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষণ রকম/ মুখোমুখি আমি, খোকা, আর বৃদ্ধাশ্রম "
( এটি একটি সংগৃহীত পোষ্ট ,লেখকের নাম জানি না .)
দুরাত্মা গান্ধী
গান্ধীজিকে কেনো সন্মান করবো, বলতে পারেন ?
যারা গান্ধীজিকে মহানের চোখে দেখেন তাদের জন্য আমি বিপ্লব আরেকবার এলাম। আশাকরি কয়েকটি ঐতিহাসিক যুক্তি দিয়েই বোঝাতে পারবো যে গান্ধী কোন মহান ব্যাক্তি নন, সবটাই তার মুখোশ। যেমন-
১) বিপ্লবী যতীন দাস অনশন করে লাহোর জেলে ৬৩ দিনের মাথায় শহীদ হন। গান্ধী তখন লাহোরেই ছিলেন, কিন্ত তাকে বলা হলেও তিনি মহান যতীন দাসকে মালা দিতে যান নি। দেশের জন্য এক যুবকের এমন মৃত্যুবরণও গান্ধীর মন গলাতে পারলো না।
২) ভগত সিং তখন জেলে এবং ফাঁসীর ঘোষনা হয়ে গেছে। তাই চন্দ্রশেখর আজাদ তাঁকে বাচানোর জন্যে গান্ধীর সাথে দেখা করতে চান, কিন্ত গান্ধী বলেন যে তিনি কোনো আতঙ্কবাদীর সাথে দেখা করতে পারবেন না। অতঃপর আজাদ ২৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৩১ নেহেরুর সাথে দেখা করতে যান। সেখানে ভগত সিং কে বাচাতে মরিয়া আজাদের সাথে নেহেরুর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় এবং আজাদ সেখান থেকে বেরিয়ে সাইকেল চেপে এক পার্কে গিয়ে বসেন, ১৫ মিনিটের মধ্যে ব্রিটিশের ২ ব্যাটেলিয়ান তাঁকে ঘিরে ফেলে, কিন্ত মহান বিপ্লবী নিজের গুলিতেই শহীদ হন। পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে যে নেহেরু গদ্দারি করেছিল।
৩) যেখানে ব্রিটিশও ভগত সিং এর ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হয়েছিলেন, কিন্ত গান্ধী তাকে বাচানোর কোনো চেস্টাই করলেন না উপরন্তু মহান বিপ্লবীকে গুন্ডা বললেন এবং একদিন আগেই ফাঁসীতে মত দিলেন।
৪) জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকারী মাইকেল ডায়ারকে বীর বিপ্লবী উধম সিং যখন ইংল্যান্ড গিয়ে হত্যা করে বদলা নিলেন তখন গান্ধী এই বীর বিপ্লবীকে পাগল বললেন।
৫) ১৯৩৮ সালে সুভাষ বিনা প্রতিদন্দীতায় সর্বসম্মতিক্রমে কংগ্রেস সভাপতি হলেন। কিন্তু ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সুভাষের বিদ্রোহ গান্ধী সহ্য করতে পারলেন না, তাই ১৯৩৯ সালে সুভাষের বিরুদ্ধে সীতারামাইয়া পট্টভিনায়ককে দার করালেন এবং ঘোষনা করলেন যে সীতারামাইয়ার পরাজয় হবে তার পরাজয় ও যদি সুভাষ জয়ী হন তবে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। সুভাষ একা একদিকে আর কংগ্রেসের বাকি সব ন্যাতা যেমন- গান্ধী, নেহেরু, প্যাটেল, গোবিন্দবল্লভ পন্হ, ভুলাভাই দেশাই, রাজেন্দ্র প্রসাদ, সরোজিনি নাইডু, আবুল কালাম সহ সবাই একদিকে। কিন্তু সুভাষ সবাইকে গোহারা হারালেন, তবুও গান্ধী রাজনিতি ছাড়লেন না বরং সুভাষের সাথে শয়তানি করে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করলেন।
৬) গান্ধী প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশের হয়ে সৈন্য বাছতেন, সেই যুদ্ধে ১৩ লাখ ভারতীয় ব্রিটিশের হয়ে লড়লেন এবং ৭২ হাজার শহীদ হন। এটা কি অহিংসা? ২য় বিশ্বযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে নেতাজি যখন যুদ্ধের জন্য তৈরী, তখন গান্ধী বললেন সুভাষ দেশের শত্রু এবং আরও বললেন যে যদি ব্রিটিশই পরাধীন হয় তবে ভারতের স্বাধীনতা পেয়ে কি লাভ? এখন ব্রিটিশকেই সাহায্য করা উচিত এবং করলেন। তা যুদ্ধ কি অহিংসার পথে হয়েছিল ? গুলির বদলে কি লাড্ডু বিতরন হচ্ছিল?
৭) এই কাঙ্গালীর দেশে তিনি কিভাবে ভালো খান, আর কিভাবেই বা ধনীর মতো থাকেন? গরীব গান্ধীর প্রতিদিনের খাবার ছিলো যেমন- কাজু, আখরোঠ, বাদাম, মোসম্বি, বেদানা, লেবু, আপেল, গরুর দুধ, ছাগলের দুধ, ক্ষীর, রুটি আরও অনেক কিছু। এছাড়া গরমকালে ঠান্ডা এটেল মাটিতে পেট রেখে ঘি দিয়ে পা মালিশ করাতেন। সরোজিনী নাই ডু একবার বলেছিলেন " বাপু আপনাকে গরীব বানিয়ে রাখতে অনেক খরচ হয়ে যাচ্ছে।
নগ্ন হয়ে নারীদের সাথে একই বিছানায় নিশিযাপন করতেন, এটা নাকি তার ব্রম্মচর্যের পরীক্ষা। ডাক্তারের মতে ৪ সন্তানের বাবা 65 উর্ধ গান্ধীর পক্ষে ঐ পরীক্ষা সম্ভব নয়। তাই ঐ পরীক্ষা-নিরীক্ষা কি ছিল সবার কাছেই সেটা পরিস্কার।
স্বামীজি এতো বড় ব্রম্মচারী হয়েও তার ব্রম্মচর্যের কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় নি।
৮) গান্ধী বলেছিলেন যদি দেশভাগ হয় তবে তা হবে তার মৃতদেহের উপর দিয়ে। কিনতু অবশেষে দেশভাগ হয়েছিল এই মুখোশধারী গান্ধীর সমর্থনেই।
যাইহোক অনেক বললাম। এবার শুনুন পর্দার আড়ালের আসল ঘটনাঃ
১৮৮৫ সাল, কংগ্রেসের প্রতিস্ঠাতা এলান অক্টিভিয়ান হিউম একজন ব্রিটিশ। সারা ভারত তখন স্বামী বিবেকানন্দের জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ, তাঁর বাণী "জন্ম হইতেই তোমরা মায়ের বলী প্রদত্ত".... ব্রিটিশ দেখল যদি এই জাতীয়তাবাদ চলতে থাকে তবে তাদের সাম্রাজ্য ধংস হয়ে যাবে। তাই তাদের একটা প্রতিরোধ গড়তে হবে।
অসফল ব্যারীস্টার গান্ধী সাউথ আফ্রিকা থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে আসেন ৪৬ বছর বয়সে এবং ৫ বছরের মধ্যে কংগ্রেসের সর্বেসর্বা হয়ে যান কিভাবে? ভারত ধর্ম ভীরু দেশ এবং এই দেশ সন্ন্যাসীকে আগাগোড়াই শ্রদ্ধা করেন। তাই ব্রিটিশ গান্ধীকে কংগ্রেসের সর্বেসর্বা বানিয়েছিলেন স্বামীজির কাউন্টার হিসেবে। যাতে তারা এই কংগ্রেসের প্লাটফর্মকে বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করতে পারেন। কারন তারা জানতেন গান্ধীর থেকে তাদের কোনো জীবননাশের ভয় নেই।তাই তারা বিপ্লবীদের দমাতে গান্ধীকে ফোকাসে রেখেছিলেন। এটাই সত্য।
Thursday, 14 March 2019
বোতলের নিচে ত্রিকোণ চিহ্নটা কেন থাকে?
সাবধান, নিজে সতর্ক হোন অন্যকে share করে সতর্ক করুন
জানেন বোতলের নিচে ত্রিকোণ চিহ্নটা কেন থাকে?
কিন্তু, আমারা না বুঝেই দিনের পর দিন এই সব প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে থাকি। অনেকে তো বাচ্চার দুধ ভর্তি প্লাস্টিকের ফিডিং বোতলটাই গরম করে বসেন। প্লাস্টিক বোতলের এমন যথেচ্ছ ব্যবহার আদপেও কি স্বাস্থ্যকর? এ বিষয়ে বাছ-বিচার আমরা করি না। তাই প্লাস্টিক বোতলের তলায় থাকা ত্রিকোণ চিহ্নের মানেটা বুঝে নিলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে নিমেষে।
প্লাস্টিকের বোতলের নিচের চিহ্ন
১. ত্রিকোণ চিহ্ন— এটা আসলে প্লাস্টিক বোতলের চারিত্রিক ইনডেক্স। এই চিহ্নটা থাকলে বোঝা যায় বোতলটি বিধিসম্মতভাবে তৈরি। কিন্তু, বোতলটা ব্যবহারের কতটা নির্ভরযোগ্য বা কী ধরনের জিনিস তাতে রাখা যাবে, তা ত্রিকোণ চিহ্নের মধ্যে থাকা সংখ্যা দ্বারা বোঝা যায়।
২. ত্রিকোণের মাঝে ১ সংখ্যা থাকলে— এর মানে বোতলটি একবারই মাত্র ব্যবহার করা যাবে এবং বোতলটিতে পলিথিলিন টেরেপথ্যালেট প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের বোতল বহুব্যবহারে স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকারক।
৩. ত্রিকোণের মধ্যে ২ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক বোতলে ঘন পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত শ্যাম্পু বা ডিটারজেন্ট রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের বোতল ব্যবহার হয়।
৪. ত্রিকোণের মধ্যে ৩ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের বোতল বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, এই বোতল তৈরি হয় ‘পোলিভিনিল ক্লোরাইড’ বা ‘পিভিসি’ থেকে। এতে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ‘পিনাট বাটার’ রাখতে এই বোতল ব্যবহার করা হয়।
৫. ত্রিকোণের মধ্যে ৪ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক বহু ব্যবহারের উপযোগী। বিশেষ করে, প্লাস্টিকের প্যাকেটে এই চিহ্ন প্রচুর দেখা যায়। খুব দামি বোতলে এই চিহ্ন থাকে।
৬. ত্রিকোণের মধ্যে ৫ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক একদম নিরাপদ এবং ব্যবহারের যোগ্য। আইক্রিম কাপ বা সিরাপের বোতল অথবা খাবারের কন্টেনারে এই ধরনের চিহ্ন দেখা যায়।
৭. ত্রিকোণের মধ্যে ৬ অথবা ৭ সংখ্যা থাকলে— প্লাস্টিকের রেড কার্ড বলা হয় একে। এই ধরনের প্লাস্টিক মারাত্মক রকমের ক্ষতিকারক। কারণ এই ধরনের প্লাস্টিক তৈরি হয় পলিস্টিরিন এবং পলিকার্বনেট বিসফেনল-এ। এটা মানুষের মধ্যে হরমোন সমস্যা তৈরি করে। ক্রমাগত এই ধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহার ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ায়।
Tuesday, 12 March 2019
বুড়োর জ্যাঠামি
- আ-আরে জ্যাঠামশাই।
- বুড়ো !
- কই পা-টা দেখি, একটু আবির ছোঁয়াই ।।
- বুড়ো তুই টলছিস !
- বলটু আধ গেলাস মিষ্টি চাখতে দিলো গো জেঠু, তবে নেশা হয়নি, মাইরি বলছি!
- বটে ! বটে ? কথার এই ছিরি হয়েছে তোমার !
-মা-ক্কালী, নেশা হয়নি। একটু আবির দিই ... পা-টা বাড়াও না ...
- স্কাউনড্রেল ! কাকাকে জ্যাঠায় রূপান্তর করে সেই থেকে জ্যাঠামি হচ্ছে !
- ছোটকাকু ! দেখেছ! দেখেছ কাণ্ড, একদম চিনতেই পারিনি ...এহ, এমন রংচং মেখে থাকলে কি বোঝা যায় ! এমন বিশ্রী করে কে তোমায় আবির দিল ...
- ওসব নাটক ছাড়, মেয়েটা কে ?
- মেয়ে ! কোন মেয়ে ?
- আমি কিছু দেখতে পাই না, না ? ক্যারামের বেস খেলার মতো
ঠোঙা থেকে চিমটে চিমটে আবির তুলে গালে ছোঁড়া হচ্ছে , বটতলায় বসে ওড়না দিয়ে হাতপাখার মতো হাওয়া খাওয়া হচ্ছে, এসব আমার চোখে পড়ে না, না ?
- কাকু, তোমার কোমরে তেল মালিশ করে দিই ?
- ন্যাকা ষষ্ঠী !
- বাতের ব্যাথাটা কমে গেছে ?
- সে খবরে তোর দরকার কী ?
- পা টুকু বাড়ালেই ঝামেলা মিটে যেত, সেই থেকে শুধুমুধু কেবল অশান্তি করছ ...
- অশান্তির দেখলি কী হারামজাদা ! আগে ডিলটা হোক, তার পর না হয় ওসব আবির-টাবিরের ফর্মালিটিস হবে ...
- ডিল !
- আফটারঅল ক্রাইম তো একটা নয় ! নেশা করা, কাকাকে জ্যাঠা বানানো, রকীয় ভাষায় গুরুজনের সাথে কথা বলা, অ্যান্ড লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট, বটতলায় একটা মেয়েকে ক্যারামের বেস খেলার মতো করে আবির ছোঁড়া --- এতগুলো খবর হেড কোয়ার্টারে পৌঁছাতে বেশিক্ষণ লাগবে কি ? বৌদি আবার সকাল থেকেই খিটখিট করছে ...।
- কী করতে হবে ?
- ওপরের বড় খাটের নীচে, পিছন দিক করে যে রামের বোতলখানা লুকিয়ে রেখেছিস, ওটা সারেন্ডার কর ! অবিলম্বে ! আমার এই হাতব্যাগে ! অবশ্যই কাকিমার নজর এড়িয়ে ! কুইক ...
- ছিঃ কাকু, ওটা না বাচ্চাদের জন্য রাখা ! বিকেলে এসে একটু হই হুল্লোড় করবে ছাদে। তুমি শিশু পানীয়ে হাত দেবে ?
- শিশু মাই ফুট ! বেশি কথা বলাস না বুড়ো, যা বলছি কর ...
- তার চেয়ে বলি কী, তুমিও হুল্লোড়ে সামিল হও না কেন... রামের সঙ্গে টামও পাবে ... শুধু শুধু রাম গেলা কি ভালো দেখায় ?
- বলছিস ? কিন্তু তোর কাকিমা থুড়ি বাড়ির সবাই জানে আমি দোলের দিন সাত্ত্বিক আহার করি ...
- সাত্ত্বিকই তো। সাত্ত্বিক মানে ইয়ে অনাড়ম্বর, নিরীহ মানে সরল। রামের চেয়ে সরল কেউ আছে কি ? এক বস্ত্রে কেমন বনে চলে গেল ...
- তা মন্দ বলিসনি বুড়ো। তোর বুদ্ধি আছে। কাকিমা সিরিয়াল দেখতে বসলে আমায় ডাকিস তালে, কেমন ?
- ডান ! ডিল ফাইনাল !
- মেয়েটি কিন্তু দেখতে মন্দ নয় ! তোর পছন্দের উপর আমার আস্থা আছে বুড়ো ।
- যাহ্, কাকু কী যে বলো ... আসো, পায়ে একটু আবির দিই...
Wednesday, 13 February 2019
মোহনবাগান VALENTINE
তোমরা যখন গোলাপ হাতে,
প্রিয়তমা কে 'লাভ ইউ' বলো
আমি তখন গ্যালারিতে
চেঁচিয়ে উঠি,
'মোহন বাগান' এগিয়ে চলো
তোমরা যখন ব্যর্থ প্রেমে,
বুকে জমাও অনেক ক্ষত
আমি তখন স্লোগান তুলি,
'মোহনবাগান' মায়ের মতো
তোমাদের ভালোবাসার
এক এক দিনের এক এক নাম,
আমার এই হৃদয় জুড়ে
শুধুই লেখা 'মোহনবাগান'
Monday, 1 October 2018
ভাগ্যবতী
সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিস পাড়া,
খুব ব্যস্ত চারদিক..।
দুপুর ২.৩০ হবে.. রাস্তার পাশের চেনা দোকানে চা খাচ্ছি..
একটি মেয়ে, ২৩ কি ২৪ হবে বয়স..
দোকানে ইতস্তত করতে করতে ঢুকলো..
হাতে একটা transparent ফাইল..
ভিতরে কিছু মার্কশিট,সার্টিফিকেট এসব রয়েছে দেখা যাচ্ছে...
সারা শরীরে প্রসাধনের বিন্দুমাত্র চিহ্ন না
থাকলেও ঘাম আর রোদ মাখা মুখটা বেশ সপ্রতিভ...
দোকানদারের সাথে কিছু কথোপকথনের ছিটেফোঁটা..
মেয়ে- দাদা, এখানে ভাত বা রুটি কিছু পাওয়া যায়?
দোকানী- হ্যাঁ, ভাত পাবেন, বলুন কি খাবেন? ডিম,রুই মাছ,পাবদা মাছ,চারা পোনা, মাছের ডিম, মাংস?
মেয়ে- এমনি শুধু সব্জি ভাত কত দাদা?
দোকানী - ভাত,ডাল, সোয়াবিনের তরকারি, আলুভাজা.. ৩৫ টাকা।
মেয়ে - আমার সোয়াবিন চাই না, আমায় শুধু আলুভাজা আর ডাল দিন..
৩০ টাকায় হয়ে যাবে তো?
দোকানী - আচ্ছা বোন বোসো দিচ্ছি...
এরপর একটা ফোন আসে..
মেয়ে -
" হ্যাঁ মা বলো......
.......…...... হ্যাঁ...............হ্যাঁ ইন্টারভিউ দিয়েছি..... হ্যাঁ আরও কয়েকটা অফিসে যাব কথা বলতে,.................................
.......... হ্যাঁ খেয়েছি......ভাত মাছ.... তুমি ওষুধ গুলো খেয়েছ?..... হ্যা আমি ৫ টার ট্রেনটা ধরবো... আচ্ছা ভাইকে টিউশান থেকে ফেরার সময় স্টেশনে দাঁড়াতে বলবে......আচ্ছা রাখো...হুম..।"
ফোনটা রেখে কয়েকটা সেকেন্ড বাইরের দিকে আনমনে হয়ে তাকিয়ে ছিলো..... হয়তো অসুস্থ মা.. পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের সুদিন এনে দেওয়ার সাজানো দিনের ছবি গুলো চোখে ভিড় করেছিলো...
কিরকম যেন একটা শ্রদ্ধা শ্রদ্ধা এলো... একটা অজানা অচেনা মেয়ের জন্য..
কি যেন বলে এই বয়স টাকে... বালিকার চেয়ে বড়ো.. যুবতীর চেয়ে ছোট।
নারী স্বাধীনতার কি??
ওর কাছ থেকে একবার শুনতে খুব ইচ্ছে করছিলো....
একটা মনে মনে শুভকামনা জানালাম..
এই চাকরির আকালের যুগে তুমি যে বাইরে এসে আগুন রোদের তলায়.. শক্ত মাটিতে নেমে এসেছ যুদ্ধের জন্য,
এখানেই তুমি যুদ্ধটা অর্ধেক জিতেছো..
আর অর্ধেক নিজের চাকরির টাকায় সত্যি সত্যি মাছ ভাত খাওয়ার পর জিতবে....
এ পর্যন্ত ঘটনাটা হয়তো সাধারন ছিলো..
যদিও "মেয়ে" তুমি মন জিতে নিলে..
কিন্তু ঘটনাটা আরও বাকী..
দোকানী..ভাতের থালাটা সাজিয়ে..
মেয়েটির সামনে রেখে বললো..
দোকানী -
বোন আমি ভুল করে সোয়াবিনটা দিয়ে ফেলেছি, তুমি খেয়ে নাও প্লিজ.........
ওই তিরিশ টাকাই দিও।
মেয়ে -কিন্তু আমি তো শুধু আলুইভাজাই....
দোকানী -
আমি একদম ভুলে তরকারিটা দিয়ে ফেলেছি.. তুমি প্লিজ খেয়ে নাও.. তিরিশ টাকায় নেবো আমি...আমার ভুল..
তুমি না খেলে এতোটা খাবার নষ্ট হবে আমার..
আপনাদের মতো আমিও ভেবেছিলাম নিছকই ভুল...
কিন্তু চেনা দোকানী.. কানের কাছে এসে বললো..
"শুধু ব্যাবসায় লাভ খুঁজলে হবে দাদা... এরকম ভুল গুলো করার সুযোগ ও খুঁজতে হবে... ওর খুব খিদে পেয়েছে..
বনগাঁ তে আমারও বোনটার বয়স এরকমই..."
বলে আবার নির্লিপ্ত মুখে.
চা.. সিগারেটে, ভাত, তরকারির রাজ্যে হারিয়ে যায়।
আমি খুঁজে পেলাম না... কার জন্য বেশী
ভালো লাগা উচিৎ..
হয়তো একটা লাইন লেখা যেতে পারে..
যে যুদ্ধ জিনিসটা বোঝে, সে ই যোদ্ধার রক্ত, ঘাম, ক্ষিদের মূল্য দিতে জানে.....
আরেকটা কথা...
বনগাঁর বোনকে সল্টলেকে দিব্যি অচেনা একজনের মধ্যে খুঁজে আপ্যায়ন করে নেয় যার দাদা..
সেই বোন খুব ভাগ্যবতী...
Popular Posts
-
১। পুতুল নাচের ইতিকথা- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ২। জোছনা ও জননীর গল্প- হুমায়ুন আহমেদ ৩। পথের পাঁচালি- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৪। লোটা কম্বল...
-
একদা কোন এক সময়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাধ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবি সামসুর রহমান বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন । আড্ডা দেওয়ার এক পর্...
-
এক পর্যটক একদিন এমন একটি শহরে বেড়াতে এলেন, যেখানে পুরো শহরটি ধার-দেনায় ডুবে ছিল। তো পর্যটক ভদ্রলোক ৫০০ টাকার একটি নোট হোটেলের কাউন্টারে দিয়ে...
-
শিবনাথ শাস্ত্রী পন্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী ছাত্রদের পড়াচ্ছেন। স্কুলে ড্রাম ভর্তি রসগোল্লা এসেছে। তখন শাস্ত্রী সাহেব বললেন, ”এই ড্রাম...
-
গান্ধীজিকে কেনো সন্মান করবো, বলতে পারেন ? যারা গান্ধীজিকে মহানের চোখে দেখেন তাদের জন্য আমি বিপ্লব আরেকবার এলাম। আশাকরি কয়েকটি ঐতিহাসিক যুক্...
-
বিভিন্ন শাস্ত্রের উপর ১৫০টি বিষয় ভিত্তক জনকের নাম #বাংলা_সাহিত্য::: ✬বাংলা উপন্যাস–বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ✬ বাংলা সনেট – মাইকেল মধূসূদ...
-
পাবলিক টয়লেটের দেওয়ালে লেখা আছে পায়খানা -৫ টাকা প্রস্রাব-২ টাকা ... সাদা মনে জিজ্ঞেস করেছিলাম পাবলিক টয়লেটের অর্থসংগ্রহকারীকে "পায়খা...
-
বাঙালী যে কত পরিমানে ল্যাদখোর সেটা বোঝা যায় বাঙালির ভূত তাড়ানো দেখে। ইংরেজদের ভূত তাড়াতে ক্রুশ জোগাড় করতে হয়, হোলি ওয়াটার জোগাড় করতে হয়, ...
-
Holiday List for West Bengal Government Employees, 2023 Governor is pleased to declare that the days as specified at List-III may be observe...
-
১২ই সেপ্টেম্বর বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের জন্মদিন। মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মারা যান বিভূতিভূষণ। মৃত্যুর তিন বছর আগে একমাত্র ছেলে তারাদাস বন্দোপাধ্য...