Monday, 22 March 2021

লজ্জা করে না?

পাঁচু দা বাড়িতে বসে তুলসীপাতা চিবোতে চিবোতে প্রার্থনা করছে,
"হে ভগবান, রোগজ্বালা থেকে তুমি আমাদের রক্ষা করো"।

তা দেখে ঘনাদা বললো,
"ওরে পাঁচু, মানুষ বিজ্ঞানের সাহায্যে চাঁদে চলে গেল, বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন রোগের ওষুধ আবিষ্কার করে ফেললো, আর তুই এখনো আদ্যিকালের পদ্ধতি ব্যবহার করছিস"?

পাঁচুদা রেগে গিয়ে জবাব দিলো: 
"সে তো টেস্টটিউবেও বেবী তৈরী হচ্ছে, তা সত্ত্বেও বিয়ের পরে তুই সেই পুরনো  পদ্ধতিতেই কাজ চালাচ্ছিস্, লজ্জা করেনা আমাকে জ্ঞান দিতে "?

দাদা ও বৌদির গল্প

~ এই শুনছ, আমাদের বেসিনের কলটা দিয়ে সারাক্ষন জল পড়ছে, কিছু একটা ব্যবস্থা কর নাগো!
  ~  দুর, আমি কি করব? আমি কি কলের মিস্ত্রি নাকি?
     এই বলে দাদা আড্ডা মারতে বেরিয়ে  গেলেন। 
        
    দুদিন পর বৌদি  বললেন, 
 ~ দেখেছ আমাদের রান্নাঘরের দরজাটা কেমন আটকে আটকে যাচ্ছে, ভালো করে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
  ~ আমি কি কাঠের মিস্ত্রি নাকি? ওসব আমার দ্বারা হবে না।
   এই  কথা বলে দাদা তাস খেলতে বেরিয়ে গেলেন।
  আবার কদিন পর..
 ~  বেডরুমের ফ্যানটা ঘুরলে ক্যাঁচ ক্যাঁচ আওয়াজ হচ্ছে, কিছু  কর বাপু।
  ~ আমি তো আর ইলেকট্রিক মিস্ত্রি নই, আমার এখন অনেক কাজ। কাল অফিসের কাজে তিনদিনের জন্য বর্ধমান যেতে হবে। সব পেপারস গুছিয়ে নিতে হবে।
     তিনদিন পরে দাদা ফিরে দেখলেন সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। 
 ~ কল, দরজা, ফ্যান কে সারালো গো?
 ~ ঐ তো, বাবুয়া ঠাকুরপো।
 ~ তা কত খরচ হল?
 ~ এক পয়সাও না।
 ~ মানে? বিনা পয়সায় সব হল?
 ~ হ্যাঁ, ঠাকুরপো বলল "সব ঠিক করে দেব, হয় আমাকে নিজের হাতে মিষ্টি  বানিয়ে খাওয়াও নয়ত আমার সাথে  দুদিনের জন্য দীঘা চল।"
 ~ তা কি মিষ্টি বানালে?
 ~ দুর, আমি ময়রা নাকি?
                        😜😜😜😂😂

Friday, 19 March 2021

জগার ভুল

আমাদের জগার ইদানিং সব ভুল হয়ে যায়। 
বাথরুম থেকে বেরিয়ে আলো নেবাতে ভুলে যায় । আলো জ্বলতেই থাকে। আলমারি থেকে জামা বের করে আলমারি বন্ধ করতে ভুলে যায় । ভিজে গামছা বা তোয়ালে মেলতে ভুলে যায় । এমনি অগুণন্তি ভুল।
বিপদটা সেখানে নয় আসল বিপদটা জগার গৃহকর্ত্রীর কোনও কিছুই নজর এড়ায় না। গম্ভীর মুখে বাথরুমের আলো নেবান। কখনও আলমারি বন্ধ করেন। 
তারপর বলেন, "কবে দেখব বাথরুমে গিয়ে দাড়ি কামানোর বদলে মাথার চুল কামিয়ে বেরোলে।"
জগা হেসে জবাব দিল , "এখন ন্যাড়া হওয়াটাও ফ্যাসান"।
.
রোজকার নিয়মে জগা অফিস থেকে ফিরে চা খাচ্ছে, বউ পাশে এসে বসে বলল, "ডাক্তারের কাছে চলো। যে রেটে তুমি ভুলে যাচ্ছ কবে দেখব অন্যের বউকেই নিজের বউ ভেবে এনে হাজির করলে।"
জগা একটু তেল মেরেই বলল, "ধুর এ ভুল কক্ষনো হবে না। তুমি আমার হৃদয়ে খোদাই হয়ে আছো। আর সব ভুলের জন্য যে আমি একাই দায়ী তাও তো নয়। এই যে আজ তুমি আমার ভেতরে পরার সাদা গেঞ্জির পাশে তোমার  ব্রা টা রেখেছিল, সেটা তোমার ভুল নয়?"
জগার বউ যেন ইলেকট্রিক শক খেল। বলল, "তার মানে তুমি গেঞ্জির বদলে ওটা  পরে অফিস চলে গিয়েছিলে নাকি ? হা ভগবান! কী হবে আমার!"
একটু সময় নিয়ে জগার গিন্নি নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,"তাও ভাল যে ওর ওপর জামা পরা ছিল, নইলে কী যে হতো!"
জগা বলল, "খিচুড়ি খেতে আমি ভালবাসি, তাই খিচুড়ি খাওয়ার সময় বেশি খাওয়া হয়ে যায়, জানোই তো তুমি। তাও যে আজ খিচুড়ি করলে, সে কি আমার দোষ?"
জগার বউ নির্বাক হয়ে জগার দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইল ।
জগা বলল, "অফিসে কাজ করছি এমন সময় ঘাম-টাম দিয়ে একসা। বদহজম থেকে গ্যাস হয়ে গিয়েছিল। তো অফিসের সবাই বলল, দাদা জামাটা খুলে একটু বসো। জোর করে ওরা সবাই জামা খুলিয়েই ছাড়লো। এক গাদা মেয়ে কলিগ, জামা খুলতে অস্বস্তি হচ্ছিল, কিন্তু ওরা শুনলে তো? জামা খোলার পরেই দেখলাম সব মেয়েগুলো দৌড়ে পালিয়ে গেল। আর ছেলেরা ফিকফিক করে হাসছে। কেন রে বাবা? এত হাসার কী হলো? তখনই দেখলাম আমি কি কেলোটা করেছি। আমার গেঞ্জি ভেবে তাড়াহুড়োয় তোমার ইয়েটা পরে চলে এসেছি।" 
.. জগার গৃহিণী জ্ঞান হারালেন।🤦‍♀️🤦‍♀️🤦‍♀️🤦‍♀️

😜😜😜😜😜😜

Thursday, 18 March 2021

হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো

বিশ্বপিতা ক্রুশবিদ্ধ হতে হতে বলছেন - ''হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কী করছে..!''

'ছোটদের বাইবেল' পড়ে ছোটবেলাতেই এই কথাটি বড় মনে ধরে হরিপদদার..! সময়ে অসময়ে বিড়বিড় করেন আজও, কারণে.. অকারণেও।

টিফিন টাইমে সিনেমা দেখতে গিয়ে চারবন্ধু ধরা পড়ল। মিশনারী স্কুলে কড়া আইন। তিনজনের টিসি হাতেনাতে। কেবল হরিপদ সমাদ্দার বেঁচে গেল কারণ, হেড দিদিমণির ঘরে ঢুকতে ঢুকতে ভয়ের চোটে বিড়বিড় করছিল - "হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কী করছে..!" কী জানি কী ভেবে হরিপদকেই সেদিন ক্ষমা করে দেন দিদিমণিরা। 

ওজন করে, টাকা পয়সা মিটিয়ে চিংড়িগুলো থলিতে নিতে নিতে বিড়বিড় করছিলেন - 'হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কী করছে..!' কী জানি কী কারণে আরো চারটে চিংড়ি থলিতে পুরে দিল গণশা..!

শোকজের চিঠিটা হাতে পেতেই হার্টবিট বেড়ে গেছিল। পাঁচজন স্যারের মুখোমুখি প্যান্ট হলুদ। একের পর এক চোখা প্রশ্ন। চাকরি যায় যায়..! হঠাৎ বিড়বিড় করে উঠলেন - "হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কী করছে..!" পাঁচজোড়া চোখ স্থির। চাকরি বহাল রইল হরিপদদার।

সেদিন হোটেলে খেতে বসে বিড়বিড় করছিলেন - "হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কী করছে..!" হঠাৎই ছোঁ মেরে প্লেট তুলে নিল একজন - "আপনাকে মালিক ডাকছে..!" ভেতরে যেতে হাত পা ধরে কান্নাকাটি এক ভদ্রলোকের - "কাউকে বলবেন না প্লিজ, মারা পড়ে যাব। এই দেখুন সব ফেলে দিয়েছি..!"
হরিপদদার চোখের সামনে নালিতে উজাড় প্রচুর মাংস..দুর্গন্ধ..!!

মান্তির মা আ.সি.ইউ-তে। রোজ পঁচিশ হাজার বেরিয়ে যাচ্ছে। যমে মানুষে টানাটানি, ডাক্তার হাল ছাড়ছে না। রিসেপশনে বসে হরিপদদা নিজের খেয়ালেই অভ্যেসমতো বিড়বিড় করছেন - "হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কী করছে..!" ডাক্তার ডেকে পাঠালেন চেম্বারে - "বুঝতেই তো পারছেন ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার, আমাদের হাত পা বাঁধা। পাঁচ কান করবেন না, লাস্ট তিনদিনের বিল দিতে হবে না..ডেড বডি রিলিজ করে দিচ্ছি..!"

আজ বড়দিন। ছেলে মেয়ে গিন্নীর সঙ্গে জমিয়ে মাংস ভাত। খেতে খেতেই হরিপদদার বিড়বিড় - "হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কী করছে..!"
হঠাৎ ভ্যাবাচাকা খেয়ে তিন্নি বললো - "ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, ভাল ঘরের ছেলে.. আমি নিজেই তোমাদের বলতাম..!"
খেয়ে উঠে নন্তু হরিপদদার কানের কাছ এসে বলে গেল - "বন্ধুরা জোর করল, তাই দু'টান দিচ্ছিলাম। আর খাব না।"
শুতে এসে বাবলির মুখঝামটা - "না হয়, প্যান্টের পকেট থেকে তিনশো টাকা নিয়েছি.. তা বলে খেতে বসে, ছেলে মেয়ের সামনে.. ওভাবে বলবে..!!"

হরিপদ সমাদ্দার মুখে খিলি পান গুঁজে বিড়বিড় করেন - "হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা করো, এরা জানে না এরা কী করছে..!"

😜😜😜😜😜😜😜😜😜😜😜😜

Tuesday, 3 November 2020

ধোকাবাজ

আমি একজন মধ্যবয়সী পুরুষ। ফেসবুকে আমার অনেক অনেক ফ্রেন্ড। তার মধ্যে অনেক মেয়ে ফ্রেন্ডও আছে। চ্যাট ট্যাট করে, নানারকম গল্পসল্প করে ভালই দিন কাটে। এরকম একজন হল প্রিয়া। বয়স ত্রিশ পয়ত্রিশ, বিবাহিতা। অসাধারণ সুন্দরী। কি সুন্দর করে কথা বলে ইনবক্সে! কথা বলতে বলতে খেয়ালই থাকে না সময় কোনদিক দিয়ে চলে যায়। একদিন সে কল করে বলে, " আমার স্বামী ব্যবসার কাজে কোলকাতা গেছে, বাড়িতে কেউ নেই। তুমি এসো"। তোমার স্বামী যদি ফিরে আসে এর মধ্যে?
" আরে আসবে না। আর আসলে তুমি একটা ন্যাকড়া নিয়ে দরজা জানালা মুছতে থাকবে। আমি ওকে বলব তুমি ক্লিনিং কোম্পানী থেকে এসেছো, ঘর পরিস্কার  করতে।  এমনিতেও পূজো সামনে।"  আচ্ছা ঠিক অাছে, আসছি। কি অদ্ভুত! আমি যাওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে ওর স্বামী এসে হাজির। কি আর করা! জানালার গ্লাস মুছতে শুরু করলাম। গ্রীল পরিস্কার করলাম। সবগুলো জানালা দরজা পরিস্কার করলাম। রান্নাঘরের কোনাকানি পরিস্কার করলাম। বাথরুম পরিস্কার করলাম। 
ফ্যান মুছলাম, ফার্নিচার মুছলাম। ৪-৫ ঘন্টার মধ্যে তাদের পুরো বাড়ি পরিস্কার ঝকঝকে করে দিলাম। সে আর তার স্বামী মিলে সারাক্ষণ এটা সেটা ইন্সট্রাকশন দিয়ে গেলো। পরিস্কার করা শেষ হলে তার স্বামী জিজ্ঞাসা করল, "আপনার বিল কত হয়েছে?" সে আগ বাড়িয়ে উত্তর দিল, " জানু আমি তো আগেই অনলাইনে পেমেন্ট করে দিয়েছি। তারপর ওরা লোক পাঠিয়েছে।" "ও আচ্ছা" বলে ওর স্বামী আমাকে ১০০ টাকা বখশিশ্ দিয়ে দিল। আমি বাড়ি চলে এলাম। কাজের লোক পাওয়া যে কঠিন আজকাল! 
তাই তো বলি পোলাপান, ফেসবুকের সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে দেখে পটে যাস না । দুনিয়াটা ভরে গেছে ধোকাবাজে।
 🤔🤔

Sunday, 1 November 2020

শিশি

কয়েক দিন ধরে ভোরবেলায় দেখছি খুব ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে । শোবার সময় বেশ গরম ই থাকে । তাই ফুল স্পীডেই পাখা চালিয়ে শুই। বউকে বললাম, বিছানায় একটা চাদর রেখো তো। কিন্তু কে শোনে কার কথা? যথারীতি এক ভোরে ঠান্ডা লাগতে পরণের লুঙ্গিটাকেই চাদরের মতো ব্যবহার করতে হোল । কিন্তু তাতে কি হয়? যা হবার তাই হলো । প্রচন্ড সর্দিতে চারদিন নাকানি চোবানি খেয়ে শেষে সিটি লাইফ নার্সিংহোমে গিয়ে ডাক্তারবাবুকে দেখালাম। তিনি গম্ভীর মুখে আমাকে ইউরিন পরীক্ষা করিয়ে নিতে বললেন । ওখানেই হবে । আমি নার্সকে জিগ্যেস করলাম শিশি কোথায় পাবো?  নার্স বললে, টয়লেটের বাইরেই একটা শেল্ফে শিশি রাখা আছে । স্যাম্পল টা নিয়ে ক্যাশ কাউন্টারে চলে আসবেন ।

গিয়ে দেখি, কোন শিশিই সেখানে নেই । কোভিডের দৌলতে মনে হয় একটা খালি স্যানিটাইজারের শিশি পড়ে রয়েছে । অগত্যা তাতেই স্যাম্পল ভর্তি করে কাউন্টারে চলে এলাম । একটু পরে ই সচকিত হয়ে দেখলাম মোবাইলটা তাড়াহুড়োয় টয়লেটে ফেলে এসেছি । তড়িঘড়ি করে ছুটলাম। গিয়ে ভাগ্যবলে ওটাকে তো পেলাম, কিন্তু কাউন্টারে অনেক লোকের লাইন হয়ে গেছে । দেখি প্রত্যেকেই একটি বার করে আমার রেখে যাওয়া স্যাম্পল-এর শিশি থেকে বেশ করে স্যানিটাইজার ঢেলে নিয়ে হাতের চেটোয় , কনুই তে, ঘাড়ে, এমনকি মুখে ও ঘষছিলেন । কেউ কেউ আবার গন্ধ শুঁকে কমেন্টস করছেন,  বাজে মাল, মনে হয় ডুপ্লিকেট হবে ।

আমি বিস্ময়ে থ' মেরে গেছি । ভাবলাম সতর্ক করে কিছু বলবো । কিন্তু ততক্ষণে আর সময় নেই । শিশিটা প্রায় খালি হয়ে এসেছে । বললে তো, নির্ঘাত মারধোর খেতাম।

তাই বলে কিছু বলবো না, তাকি হয়? আপনাদের সবিনয়ে জানিয়ে রাখি, না দেখেশুনে কিছু ব্যবহার করতে যাবেন না শুধু মাত্র ফ্রি তে পাওয়া যাচ্ছে বলে ।

Thursday, 3 September 2020

নুনু পত্রিকা

নুনু মিয়া নামের এক লোক পুরনির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িয়েছে। পরদিন স্থানীয় পত্রিকার শিরোনাম :-
 
"নুনু দাঁড়িয়েছে!"

খবর দেখে নুনু মিয়ার মেজাজ গরম হয়ে গেছে। তিনি পত্রিকা অফিসে ফোন করে রাগী গলায় বকা ঝকা করলেন। পরদিন পত্রিকার শিরোনাম এসেছে :-

"নুনু গরম হয়েছে!"

নুনু মিয়া ভোটে দাঁড়িয়েছে এই খবর এলাকার বড় এক বয়স্ক নেতা জানেন না। মূলত তিনি একই দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও রানিং ভাইস চেয়ারম্যান।  সাংবাদিকরা ওনার কাছে গিয়ে অনুভূতি জানতে গেলে উনি বলেন "নুনু আবার কবে দাঁড়াল, আমিতো টেরই পেলাম না।"

এদিকে সেই নির্বাচনে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দাড়িয়েছেন এক মহিলা। তিনি নুনু মিয়ার ঘোর বিরোধী। তিনি নারীদের নিয়ে নুনু মিয়ার বিরুদ্ধে মিছিল করলেন। নারীরা পত্রিকায় সাক্ষাতকার দিল। পরদিন পত্রিকার শিরোনাম এসেছে :-

"এলাকার নারীদের খুশী করতে পারেনি নুনু!"

খবর দেখে এবার পত্রিকাওয়ালার বিরুদ্ধে সেই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ক্ষেপে গেছেন। তিনি এবং নুনু মিয়া একই দলের লোক। ওনাকে কেন্দ্র থেকে বকা দিয়েছে। বকা খেয়ে তিনি পত্রিকায় ফোন করে বলেন " এই সামান্য বিষয় নিয়েও আপনারা শিরোনাম করেন!" ওনার সাথে আমার কোন ব্যাক্তিগত ঝামেলা নেই। আপনারা আগামীকাল সঠিক খবর প্রকাশ করুন। পরদিন পত্রিকার শিরোনাম এলো :-

"মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুনুতে সন্তুষ্ট!"


বিষয়টা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গোচরে আসল। তারা ভাবলেন সেখানে একজন নিরপেক্ষ নেতা পাঠানো দরকার যিনি সবাইকে বোঝাবেন। কেন্দ্র থেকে খোকন মাল নামের একজনকে পাঠানো হল। যাকে আবার আদর করে লোকজন 'মাল' ডাকেন। কিন্তু মিটিংয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যাওয়ায় খোকন মাল রাগ করে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন। পরদিন পত্রিকার শিরোনাম এলো :-

"নুনু ঢোকার সাথে সাথেই মাল আউট"

এইবার নুনু মিয়া পড়লেন টেনশনে। কেন্দ্র থেকে পাঠানো নেতা ফেরত গেছে। কেন্দ্রের লোকজন ক্ষেপলে তিনি নমিনেশন পাবেন না।তার ওপর অনেকেই ক্ষিপ্ত। দুঃখে নুনু মিয়া কয়েকদিন প্রচার বন্ধ রাখলেন।একদিন পত্রিকার শিরোনাম এলো :-

"মাল আউটের পরে নিস্তেজ নুনু"


এদিকে নুনুর পক্ষে কথা বলতে আসরে নামলেন আরেক বড় নেতা। ওনার নাম কেষ্ট মাল। নুনু মিয়া এবার উজ্জীবিত হলেন। তিনি আবারও প্রচার শুরু করলেন।
পত্রিকার শিরোনাম এলো :-

'মালে পরিপূর্ণ নুনু সতেজ হয়ে গেছে!"
 

কিন্তু নুনু মিয়ার টেনশন এখনো দূর হয় নাই। কারণ তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সোনা মিয়া। পত্রিকায় প্রায়ই খবর আসে :-

"কে বড়? সোনা, নাকি নুনু?"


অবশেষে নুনু মিয়া সফল হলেন। তিনি নমিনেশন পেলেন। যারা এতদিন সোনা মিয়াকে গুরুত্ব দিত তারা এখন সবাই নুনুর পক্ষে।  পত্রিকায় শিরোনাম এলো :-

"নুনু এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী। সবাই নুনুতে তেল মাখাচ্ছে!"

Saturday, 2 May 2020

ব্ল্যাক মার্কেট


লিফটে নামছি ।

পাশের অপরিচিত লোকটি ফোনে চেঁচাচ্ছে, “মদ-টদ পাওয়া যাবে না ..। সব দোকান বন্ধ । ..শুধু *বেলা'কে*  রিকোয়েস্ট করে দেখতে পারি, যদি রাজি হয়.. ।” 

কী কান্ড ! এক ‘ম’ নেই, কিন্তু অন্য ‘ম’-এর অ্যাভেইলিবিলিটি এমন প্রকাশ্যে কেউ বলে !

 আড়চোখে পাশে তাকিয়ে দেখি, আমার বৌ নির্বিকার।

রাস্তায় বেরিয়ে চাপা গলায় বললাম, “দেখলে, কেমন বলছে মদ নেই, শুধু *বেলা* কে পাওয়া যাবে"। ব্যাটা দালাল মনে হয়। এসব সাপ্লাই করে ।” 

বৌ বলল, ‘বেলাকে’ মানে ‘ব্ল্যাকে’...😷😀।”

Sunday, 26 April 2020

মহামারী আক্রান্ত



সমগ্র বিশ্বের করোনা রিপোর্ট নিম্নলিখিত 

আমেরিকা  
আক্রান্ত  890000
মৃত  50372

ইটালি 
আক্রান্ত  189973
মৃত 25549

স্পেন
আক্রান্ত  219764
মৃত 22524

ফ্রান্স 
আক্রান্ত  121000
মৃত   21856

ইরান 
আক্রান্ত   88194
মৃত   5574

ভারতের রিপোর্ট দেখে পুরো বিশ্ববাসীর বিচি মাথায় উঠে গেছে। রিপোর্ট টি যথাক্রমে নিম্নরুপ
আক্রান্ত   23452
মৃত  723
হাতে পায়ের গাঁট ফুলেছে   133506
লাঠির বারিতে পোঁদ লাল  88320
মদ না পেয়ে পাগলাচোদা হয়েছে  230536
বিড়ির বদলে কাগজ জ্বালিয়ে টানছে  153720

আর সবচেয়ে ভয়ংকর সমীক্ষা 
লকডাউনে গর্ভবতী  739509

কমিউনিজম নিপাত যাক



পচাদা বারান্দায় বেরিয়ে হাঁক পাড়ল,-"চীন নরকে যাক!!!"
আমি অবাক হয়ে বললা,
-"সেকি, তুমি তো পাঁড় কম্যুনিশ্ট!!"
পচাদা মুখ ভেংচে উত্তর দিল, 'আরে, রাখ তোর কম্যুনিজম!! তোর বৌদির রাঁধা অমন সুন্দর পায়েসটা!!"
আমি বললুম, -"কেসটা কি বলবে তো!!"
পচাদা কাঁদো কাঁদো মুখে বল্ল,-"বাড়িতে ফিরে, পায়েসের বাটিতে চুমুক মারতেই দুধ পেটে, চাল বাটিতে পড়ে রইল,,, শালা চীন, গো টু হেল!!!"
আমি চমকে গিয়ে বললুম, -"মানে!!"
পচাদা বিরক্তিমাখা জবাব, -"আরে, মাস্ক খুলতে ভুলে গেছিলাম!!" 😭

Saturday, 18 April 2020

পুত্রহীন



*কে, নজরুল? বোসো। কখন এলে?*
*এই তো। স্তিমিত কন্ঠে বললেন নজরুল।*
*তা গলাটা এরকম শোনাচ্ছে কেন? (রবীন্দ্রনাথ ঈষৎ বিস্মিত। নজরুল খুবই হুল্লোড়বাজ রগুড়ে মানুষ। আজ তো গলা শোনাই যাচ্ছে না!) কি ব্যাপার, কারোর শরীর-টরীর খারাপ নাকি!*
*আমার ছেলেটা কাল চলে গেল, গুরুদেব। ফুঁপিয়ে উঠলেন কাজী নজরুল।*
*সে কী! চমকে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ। ঊনসত্তর বছর বয়স তাঁর। এখন কি শুধু খারাপ খবর পাওয়ার জন্যেই বেঁচে থাকা? রবীন্দ্রনাথ মাঝে মাঝেই একথা ভাবেন। চিকিৎসাশাস্ত্র একেবারেই অনুন্নত। বাঙালি পুরুষের গড় আয়ু মেরেকেটে চল্লিশ। নিজের অদ্ভুত ভালো স্বাস্হ্যের জন্য।নিজেরই বিড়ম্বনা লাগে। খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন- কি হয়েছিল?*
*বসন্ত। স্মল পক্স।*
*কত বয়স হয়েছিল। তিন, না?*
*চার।*
*আবার দীর্ঘক্ষণের নীরবতা। বাঙালির দুই প্রাণের কবি। শব্দের দুই জাদুকর। আজ দুজনেই নীরব। একটু পরে রবীন্দ্রনাথই আবার নীরবতা ভাঙলেন- তোমার ছেলেটি বড় গুণের ছিল শুনেছিলাম। কি যেন নাম রেখেছিলে?*
*ভালো নাম অরিন্দম খালিদ। সবাই ডাকতাম বুলবুল বলে।*
*হ্যাঁ, বুলবুল, বুলবুল। নিজের মনেই দুবার নামটা আওড়ালেন রবীন্দ্রনাথ। শুনেছিলাম তার নাকি অদ্ভুত স্মৃতিশক্তি।*
*আপনি কি করে জানলেন? অবাক চোখে তাকালেন নজরুল ইসলাম। কত ব্যস্ত মানুষ গুরুদেব। অথচ কত ছোট ছোট ব্যাপারের খবর রাখেন!*
*আরে না, সেরকম কিছু না। আমায় মুজফ্ফর আহমেদ বলেছিল। গতবছর জেলে যাবার আগে আমার সঙ্গে দেখা করেছিল। তোমরা তো একসময় মেসে একই ঘরে থাকতে?*
*হ্যাঁ। দশ বছর আগে কলেজ স্ট্রীটে। বত্রিশ নম্বর। নজরুল আবারও একটু চুপ করে থেকে জিগ্যেস করলেন- তা কি বলছিল আহমেদ সাহেব?*
*বলছিল, তোমার ছেলে নাকি শ্রুতিধর!*
*হ্যাঁ, গুরুদেব। যখন ওর দেড় দু'বছর বয়স তখন ওকে একটা ছবির বই দেখিয়ে আমি পাখিদের ইংলিশ নাম বলেছিলাম। ব্যাটা সঙ্গে সঙ্গে মুখস্থ করে ফেলল! করুণ হেসে বললেন নজরুল। অথচ তখন তো অক্ষরজ্ঞান হওয়া সম্ভব ছিল না!*
*বলো কী!*
*আমি তো কিছুদিন জমিরউদ্দিন খানের সঙ্গে সংগীতচর্চা করলাম। কি বলব গুরুদেব। যা গান শিখি, হরকত কব্জা করি, ও ব্যাটাও সব গলায় বসিয়ে নেয়! অবিকল। সেই ছেলে .... কেঁদে ফেললেন কাজী।*
*রবীন্দ্রনাথ কিছু বললেন না। সন্তান হারানোর চেয়ে বড় শোক আর কি আছে। কেঁদে একটু হাল্কা হোক।*
*বাড়ির কি খবর? আবার রবীন্দ্রনাথই নীরবতা ভাঙলেন। এমনিতে নীরবতা তাঁর বড় প্রিয়। কিন্তু আজ যেন বড্ড অস্বস্তিকর লাগছে।*
*সেইজন্যেই তো আপনার কাছে চলে এলাম কাঁদতে। আমার বাড়ির দুজনই খুব চাপা। মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু বাইরে প্রকাশ করছে না। আমি আর সেইখানে কি করে ...। নজরুলের কথা অসমাপ্তই থেকে গেল। তারপর আবার বললেন- আমাকে আপনি শান্তিনিকেতনে নিয়ে চলুন। কলকাতা আমার আর ভাল লাগছে না।*
*রবীন্দ্রনাথ মৃদু হাসলেন। তোমার মনে আছে নজরুল, আজ থেকে দশ বারো বছর আগে তুমি যখন সেনাবাহিনী ছেড়ে কলকাতায় এলে তখন আমি তোমাকে শান্তিনিকেতন যাবার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম? বলেছিলাম তুমি আমাদের শরীরচর্চা শেখাবে আর প্রাণের খুশিতে গান গাইবে। তুমি রাজি হওনি।*
*মনে আছে গুরুদেব।*
*পরে কিন্তু আর বলি নি, তাই তো?*
*না।*
*কেন বলতো?*
*আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন নিশ্চয়ই। এ তো বোঝাই যায়। ধীর কন্ঠে জানালেন নজরুল।*
*আরে , না রে পাগল। সেই জন্য নয়- রবীন্দ্রনাথ হেসে উঠলেন।*
*সেই জন্যে না? আমি তো ভাবতাম .....*
*না হে , না। তোমার গুরুদেবের মন অত সংকীর্ণ নয়। তাহলে তো তোমার আমার সম্পর্কই কবে খারাপ হয়ে যেত। তাহলে কি আর তোমার লেখা 'বিদ্রোহী' কবিতা পড়ে তোমাকে সকলের সামনে ওরকম জড়িয়ে ধরতে পারতাম? আমি আর কখনো কি কোথাও ওরকম আবেগ প্রকাশ করেছি?*
*তা ঠিক। আপনি আমার বড্ড প্রশংসা করেন, সব জায়গায়।*
*করবো না? তুমি তো সরস্বতীর বরপুত্র। কি অপূর্ব তোমার লেখার হাত। তোমাকে ও কথা বললাম। তুমি রাজি হলে না। তারপরে আমি তোমার লেখা পড়েই বুঝেছিলাম তুমি অস্বাভাবিক প্রতিভাবান। শান্তিনিকেতনে গেলে তোমার ট্যালেন্ট একটা ছোট জায়গাতেই আবদ্ধ হয়ে থাকত। কলকাতায় না রইলে তোমাকে এত লোক চিনতো না!*
*আপনি আমায় খুব ভালবাসেন গুরুদেব।*
*বাসিই তো। তুমিও তো প্রথমদিকে খালি আমার গানই গাইতে। তুমি আর তোমার এক বন্ধু তো জুটি বেঁধে সারা বাংলায় আমার গানই গেয়ে বেড়াতে।*
*গাইব না? এবার নজরুল কথা বলে উঠলেন রবীন্দ্রনাথের সুরে। কি অপূর্ব গান! পরে তো আমিও গান লিখতে শুরু করলাম। কিন্তু আপনার মত লিখতে পারলাম কই?*
*ও কথা বোলো না। আমাদের দুজনের স্টাইল তো আলাদা। কি চমৎকার শ্যামাসংগীত লেখো তুমি। আমি তো সেরকম কিছু লিখলামই না!*
*তাহলেও। আমার গান তো শুনেই বোঝা যায় কোন রাগরাগিনীর আশ্রয় করে সেগুলো গড়ে উঠেছে। আর আপনার ....। কি অদ্ভুতভাবে যে রাগগুলোকে মিলিয়ে নেন।*
*তুমি তো প্রচুর গান লেখ। তোমার গানের সংখ্যা তো এখনই আমাকে ছাড়িয়ে গেছে শুনতে পাই।*
*আসলে গ্রামাফোন কোম্পানিতে চাকরি নেবার পর গানের অর্ডার এত বেড়ে গেছে- নজরুল সলজ্জ ভঙ্গিমায় বললেন। আর গান লেখা ছাড়া তো আমাদের কোন কাজই নেই। ওদিকে আপনি? গান লিখছেন, বিদ্যালয় চালাচ্ছেন, জমিদারি দেখছেন, দেশবিদেশে বক্তৃতা দিচ্ছেন। উফফ্, কি করে যে পারেন!*
*ও হয়ে যায়। প্রকৃতিগত ভাবেই আমি খুব স্বাস্হ্যবান। সামান্য অর্শ ছাড়া আমার আর কোন সমস্যাই নেই।*
*এরকমই থাকুন গুরুদেব। নজরুল কাতরভাবে প্রার্থনা করলেন।*
*কথায় বাধা পড়ল।কবিগুরুর বউমা প্রতিমাদেবী এসে জিগ্যেস করলেন, বাবা, আপনি কিছু খাবেন?*
*তুমি কিছু খাবে নাকি, নজরুল?*
*কে আমি? না , গুরুদেব। নজরুল অসম্মতি জানালেন।*
*আমিও এখন কিছু খাব না, বউমা।*
*আপনি এখন খুবই কম খান। মৃদু অনুযোগ জানিয়ে প্রতিমা চলে গেলেন।*
*খুব কম খান কেন, গুরুদেব?*
*না গো বয়স হয়েছে। আমার বাবা বলতেন বেশী যদি খেতে চাও, তো কম কম খাও। তা সত্যি।*
*আরেকজনও ছিল বুঝলে? সেও আমার গান গাইত। আর খেতে বড় ভালবাসত।*
*কে গুরুদেব?*
*কে আবার। বিবেকানন্দ। আমি বলতাম নরেনবাবু। আমরা তো প্রায় সমবয়সী। আমি এক দেড় বছরের বড়।*
*নজরুল একটু অবাক হলেন। তার কেন জানি ধারণা ছিল রবীন্দ্রনাথ আর বিবেকানন্দের পারস্পরিক সম্পর্ক সেরকম ভাল ছিল না।*
*কী ভাবছ? রবীন্দ্রনাথ যেন মনের কথা পড়তে পারলেন। তুমি জানতে আমাদের আদায় কাঁচকলায়, তাই তো?নজরুল আর কি বলবেন। অস্বস্তির হাসি হাসলেন।*
*লোকে এসব বলে বেড়ায়। কেউ কিছু জানে না, জানার চেষ্টা করে না।* 
*বিবেকানন্দ আপনার গান গাইতেন?*
*তবে শোন। তখন আমার বয়স বিশ। রাজনারায়ন বসুর মেয়ের বিয়ে। আমাকে জ্যোতিদাদার মাধ্যমে খবর পাঠালেন গান গাইতে হবে। বাল্মিকী প্রতিভা বেরিয়ে গেছে। একটু আধটু নামও হয়েছে। তবে অত লোকের মধ্যে একা গাইব! একটু টেনশন হচ্ছিল। এইসময় হঠাৎ নরেনবাবুর সঙ্গে দেখা। আমাদের বাড়িতে প্রায়ই আসত। আমার ভাইপোর বন্ধু ছিল। ব্যাস্। ওঁকে চেপে ধরলাম।*
*তারপর?*
*বেশ কিছুদিন রিহার্সাল করলাম। তিন খানা গান। আমার লেখা। নরেনবাবু গাইল, পাখোয়াজ বাজাল। আমি অরগান বাজালাম।*
*সে কি। আপনি গাইলেন না?*
*ঐ গলা মেলালাম। নরেনবাবুর গলার সঙ্গে আমি পারি নাকি? কি জোরাল ওজস্বী গলা ছিল।*
*নজরুল চুপ করে রইলেন।*
*তারপর তো সারা কলকাতায় আমার গান গাইতে লাগল। রেগুলার তাড়া। গান লিখুন, গান লিখুন। আমার গান তো রামকৃষ্ণদেবকেও শুনিয়েছিল। তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা।*
*আচ্ছা, আপনি রামকৃষ্ণকে গান শোনান নি?* 
*শোনাই নি মানে? বছরখানেক পরেই তো শোনালাম, কাশী মিত্রের বাগানবাড়িতে। কি খুশি যে হলেন! বড় মধুর স্বভাবের ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ একটু যেন অন্যমনস্ক।*
*তারপর কি হল?*
*তারপর তো রামকৃষ্ণদেব মারা গেলেন। নরেনবাবুও ভ্যানিশ। প্রায় দশ বছর পর হঠাৎ উদয়- বিবেকানন্দ হয়ে। বিশ্বজোড়া নাম। কলকাতায় সম্বর্ধনা দেওয়া হল। আমিও মঞ্চে ছিলাম। চিনতে পারলো, বেশ কথাও হল।*
*আপনি ছিলেন? নজরুল বিস্মিত। কোথায় যেন শুনেছিলেন যে বিবেকানন্দের নামডাক হবার পর রবীন্দ্রনাথ অস্বাভাবিক চুপচাপ ছিলেন। সেরকম কোথাও কিছু লেখেন নি ওনার সম্পর্কে।*
*ছিলাম তো। কী নায়কোচিত জীবন। যেন নভেল। আমার একটা উপন্যাস তো ওঁকে নিয়েই লেখা না হলেও ওর খানিকটা প্রভাব আছে।*
*কোনটা গুরুদেব?*
*কেন, গোরা।*
*ও তাই বুঝি। সত্যি, আগে খেয়াল করি নি। অনেক মিল আছে।*
*আর বিবেকানন্দের আরেক অনুষ্ঠানের তো আমিই ছিলাম প্রধান উদ্যোক্তা। তবে তাতে উনি ছিলেন না।*
*কবে, গুরুদেব?*
*কবে আর। ওনার স্মরণসভায়। যেবার আমার স্ত্রী মৃণালিনী চলে গেল, সেবছরই তো নরেনবাবুও...। কী লোক। যেমন সাহস, তেমন অপূর্ব চিন্তাধারা, আর তেমনি বক্তৃতা দেবার ক্ষমতা। আমার বাবাও তো ওঁকে খুব ভালবাসতেন। নরেনবাবু তো খুব খেতে পারত। বাবা ওকে সামনে বসিয়ে খাওয়াতেন। আর ওর কথা শুনতেন। বলতেন ছেলেটির কথায় যেন জাদু আছে। তোমরা তো ওনার কথা বা বক্তৃতা শোনোনি, তাই না?*
*কি করে শুনবো, গুরুদেব? ঊনিশশো দুই সালে আমার বয়স তো মাত্র তিন।*
*মাত্র? ও বাবা। তুমি তো তার মানে আমার ছোট ছেলে শমীর চেয়েও ছোট।*
*নজরুল আবারও সলজ্জ হাসলেন।*
*শমীও খুব প্রতিভাবান ছিল জানো তো। আমাকে সবাই বলত ও নাকি আমার কার্বন কপি। তা সেও তো চলে গেল। মাত্র এগারো বছর বয়স ছিল।*
*কি হয়েছিল, গুরুদেব? নজরুল জিজ্ঞাসা করলেন।*
*কলেরা। মুঙ্গের গেছিল।বন্ধুর বাড়ি। সেখানেই। নজরুল চুপ করে রইলেন।*
*যেদিন শমী চলে গেল ... রবীন্দ্রনাথ বলে চললেন। রাতের বেলা দেখি সারা পৃথিবী যেন চাঁদের আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে। দেখলাম প্রকৃতি যেমনিভাবে চলে ঠিক তেমনভাবেই চলছে। কোথাও কোনো ব্যতিক্রম নেই। আমার এই শোকের দিনে যেন কারোর কিছু আসে যায় না। একটা ভারি অদ্ভুত অনুভুতি হল, জানলে!*
*নজরুল বড় বড় চোখ মেলে রবীন্দ্রনাথের দিকে চাইলেন।*
*মনে হল- ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তার এটাই ইচ্ছা। মৃত্যু আসবেই, হয়ত অকালেই আসবে। শোকতাপ থাকবে। যেমন আনন্দও আছে। কিন্তু কাজ থামালে চলবে না। আমাদের আরব্ধ কাজ আমাদের করে যেতেই হবে। আর এইটেই হল মহাবিশ্বের পরম সত্য।

Popular Posts