Friday, 6 November 2026

সিপিএম

আমার এক বন্ধু ছিল, নাম সিপিএম। সিপিএমের বাবা খুব গরীব। বাবা সারাক্ষন বলত একটু পড়াশুনো কর। সিপিএম পড়াশুনো করত না ফলে পরীক্ষায় প্রতিবার ফেল করল। তখন সিপিএম বলল প্রথাগত শিক্ষার কোন গুরুত্ব নেই। সিপিএম বাবার টাকা ঝেড়ে বিড়ি খেতে গিয়ে ধরা পড়ল। যখন বাবার হাতে ঠেঙানি খাচ্ছিল, মা কোনোওমতে সিপিএমকে মার খাওয়ার হাত থেকে বাঁচালো। ঠোঁট ফুলিয়ে সিপিএম বলল, বাবা খারাপ, মা ভালো। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার অবসান চাই। নারীবাদ জিন্দাবাদ। সিপিএম স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখতে যাচ্ছিল। দেখতে পেয়ে মাস্টারমশাই সিপিএমকে কান ধরে টেনে এনে একটা ঘরে বন্ধ করে রাখেন। সেদিন সিপিএম চিৎকার করে বলেছিল, আমরা কি সত্যিই স্বাধীন? সিপিএম তৃতীয় শ্রেণীতে মাধ্যমিক পাশ করে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার আবেদন করল কিন্তু কোথাও চান্স পেলোনা। তখন সিপিএম বলল, শ্রেণীহীন সমাজ চাই। বিজ্ঞানবিভাগে সুযোগ না পেয়ে শেষে আর্টস নিয়ে পড়তে হল। সিপিএম তখন বলল, সমাজবিজ্ঞানই আসল বিজ্ঞান। এরপরে সিপিএম প্রেমে পড়ল, মেয়েটির নাম ছিল মেধা। কিছুদিন বাদে মেধা সিপিএমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একটা মোটা মাইনের ছেলেকে বিয়ে করে চলে গেল। সিপিএম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, মেধা পুঁজিবাদের হাতের পুতুল। বাস্তবে মেধা বলে কিছু হয়না। সিপিএম বিনা নেমন্তন্নে এক বিয়েবাড়িতে খেতে গিয়ে ধরা পড়ল। সিপিএম বলল একটা মানুষ মানে শুধু একটা খাবার মুখ নয়, কাজ করার দুটো হাতও বটে। সেদিন সিপিএম বিয়েবাড়ির সব বাসন মেজেছিল। অনেক চেষ্টা করেও সিপিএম কোন চাকরি পেলোনা। সিপিএম বলল, চাকরি করা মানে চাকর হওয়া। আমি কারুর চাকর হতে চাইনা। আমি সেল্ফ এমপ্লয়েড। সিপিএম বিভিন্ন মানুষের ফাইফরমাস খেটে চা-বিড়ির টাকাটা উপার্জন করে ফেলত এবং বলত, কোন কাজই ছোট নয়। সিপিএমের বিয়ের কথা চলছিল, হবু শ্বশুর প্রশ্ন করল, বাবাজীবনের কী করা হয়? সিপিএম বলল আমি কবি এবং সমাজসেবী। আচ্ছা, তোমার প্রিয় একটা কবিতা শোনাও, শুনি।👉 গাঁ__ মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁ__ মারি তোর শপিং মলের...✊ শোনা মাত্র হবু শ্বশুর ড্রাইভারকে বললেন শিগগির গাড়িটা বের কর এক্ষুনি পালাই। বিয়েটা আর হয়নি সিপিএমের। সিপিএমের এখন বয়েস হয়েছে। সিপিএম এখন আত্মসমীক্ষা করে এবং স্বীকার করে এটা আর একটা ঐতিহাসিক ভুল ছিল এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিতে আমিই পারি। সিপিএমের বাড়ির পাশে একটা চাড্ডি থাকতো ।সে বাস্তববাদী ছিল। ব্যবসা করে বড়োলোক হয়ে গেছে। সিপিএম তার থেকে ধার নিয়ে সংসার চালায়। কিন্তু সন্ধ্যা হলে পার্টি অফিস বসে বলে চাড্ডিরা ধান্দাবাজ, ব্যবসা করে, আমাদের দেখে না। পাড়ার সবাইকে যেচে টাকা দেয় না। আমরা গরীব, কিন্তু ভালো।

Popular Posts